
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে বন্দি করেছে যুক্তরাষ্ট্র—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলায় ‘বৃহৎ পরিসরের’ সামরিক অভিযানের মধ্যেই এই আটক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন।
মাদুরোকে বন্দি করার এই খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং একইসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দি হওয়া বিভিন্ন দেশের শীর্ষ সরকারপ্রধানদের ঘটনা। ইতিহাস বলছে, রাজনৈতিক ও সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে একাধিক রাষ্ট্রনেতাকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
নোরিয়েগা: পানামায় সামরিক হস্তক্ষেপ
১৯৮৯ সালে পানামায় সরাসরি সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। লক্ষ্য ছিল দেশটির সামরিক শাসক ম্যানুয়েল নোরিয়েগা। নাগরিকদের নিরাপত্তা, দুর্নীতি, অগণতান্ত্রিক শাসন ও মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে এই অভিযান চালানো হয়।
এর আগেই ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে নোরিয়েগার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়—যেমনটি এখন মাদুরোর ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। নোরিয়েগা ১৯৮৫ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস আরদিতো বারলেত্তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেন এবং ১৯৮৯ সালের নির্বাচন বাতিল করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় তিনি ওয়াশিংটনের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর পানামা অভিযান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান। নোরিয়েগাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে বিচার করা হয় এবং তিনি ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানে কারাবন্দি ছিলেন। পরে তাকে ফ্রান্স ও পরবর্তীতে পানামায় প্রত্যর্পণ করা হয়। ২০১৭ সালে পানামার কারাগারেই তার মৃত্যু হয়।
সাদ্দাম: ইরাকে যুদ্ধ ও গ্রেফতার
ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইনকে ২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর আটক করে মার্কিন বাহিনী। এর নয় মাস আগে ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সামরিক জোট দেশটিতে হামলা চালায়।
একসময় সাদ্দাম ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র, বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধে। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তিনি আল-কায়েদাসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছেন—যার কোনো প্রমাণ মেলেনি। ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রও পাওয়া যায়নি।
নিজ শহর তিকরিতের কাছে একটি গর্তে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সাদ্দামকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ইরাকি আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
হার্নান্দেজ: বিতর্কিত দৃষ্টান্ত
হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরলান্ডো হার্নান্দেজের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ উত্থাপন করে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তেগুসিগালপায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
মাদক পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয় এবং ২০২২ সালের জুনে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে দেন। এর পরপরই হন্ডুরাসের শীর্ষ কৌঁসুলি তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি সংকট তৈরি হয়।
নতুন উত্তেজনার শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অতীত সামরিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ধারাবাহিকতায় আরেকটি বড় সংযোজন হবে। এতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে বন্দি করেছে যুক্তরাষ্ট্র—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলায় ‘বৃহৎ পরিসরের’ সামরিক অভিযানের মধ্যেই এই আটক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন।
মাদুরোকে বন্দি করার এই খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং একইসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দি হওয়া বিভিন্ন দেশের শীর্ষ সরকারপ্রধানদের ঘটনা। ইতিহাস বলছে, রাজনৈতিক ও সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে একাধিক রাষ্ট্রনেতাকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
নোরিয়েগা: পানামায় সামরিক হস্তক্ষেপ
১৯৮৯ সালে পানামায় সরাসরি সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। লক্ষ্য ছিল দেশটির সামরিক শাসক ম্যানুয়েল নোরিয়েগা। নাগরিকদের নিরাপত্তা, দুর্নীতি, অগণতান্ত্রিক শাসন ও মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে এই অভিযান চালানো হয়।
এর আগেই ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে নোরিয়েগার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়—যেমনটি এখন মাদুরোর ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। নোরিয়েগা ১৯৮৫ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস আরদিতো বারলেত্তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেন এবং ১৯৮৯ সালের নির্বাচন বাতিল করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় তিনি ওয়াশিংটনের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর পানামা অভিযান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান। নোরিয়েগাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে বিচার করা হয় এবং তিনি ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানে কারাবন্দি ছিলেন। পরে তাকে ফ্রান্স ও পরবর্তীতে পানামায় প্রত্যর্পণ করা হয়। ২০১৭ সালে পানামার কারাগারেই তার মৃত্যু হয়।
সাদ্দাম: ইরাকে যুদ্ধ ও গ্রেফতার
ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইনকে ২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর আটক করে মার্কিন বাহিনী। এর নয় মাস আগে ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সামরিক জোট দেশটিতে হামলা চালায়।
একসময় সাদ্দাম ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র, বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধে। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তিনি আল-কায়েদাসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছেন—যার কোনো প্রমাণ মেলেনি। ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রও পাওয়া যায়নি।
নিজ শহর তিকরিতের কাছে একটি গর্তে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সাদ্দামকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ইরাকি আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
হার্নান্দেজ: বিতর্কিত দৃষ্টান্ত
হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরলান্ডো হার্নান্দেজের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ উত্থাপন করে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তেগুসিগালপায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
মাদক পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয় এবং ২০২২ সালের জুনে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে দেন। এর পরপরই হন্ডুরাসের শীর্ষ কৌঁসুলি তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি সংকট তৈরি হয়।
নতুন উত্তেজনার শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অতীত সামরিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ধারাবাহিকতায় আরেকটি বড় সংযোজন হবে। এতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে বন্দি করেছে যুক্তরাষ্ট্র—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলায় ‘বৃহৎ পরিসরের’ সামরিক অভিযানের মধ্যেই এই আটক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন।
মাদুরোকে বন্দি করার এই খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং একইসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দি হওয়া বিভিন্ন দেশের শীর্ষ সরকারপ্রধানদের ঘটনা। ইতিহাস বলছে, রাজনৈতিক ও সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে একাধিক রাষ্ট্রনেতাকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
নোরিয়েগা: পানামায় সামরিক হস্তক্ষেপ
১৯৮৯ সালে পানামায় সরাসরি সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। লক্ষ্য ছিল দেশটির সামরিক শাসক ম্যানুয়েল নোরিয়েগা। নাগরিকদের নিরাপত্তা, দুর্নীতি, অগণতান্ত্রিক শাসন ও মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে এই অভিযান চালানো হয়।
এর আগেই ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে নোরিয়েগার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়—যেমনটি এখন মাদুরোর ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। নোরিয়েগা ১৯৮৫ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস আরদিতো বারলেত্তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেন এবং ১৯৮৯ সালের নির্বাচন বাতিল করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় তিনি ওয়াশিংটনের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর পানামা অভিযান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান। নোরিয়েগাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে বিচার করা হয় এবং তিনি ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানে কারাবন্দি ছিলেন। পরে তাকে ফ্রান্স ও পরবর্তীতে পানামায় প্রত্যর্পণ করা হয়। ২০১৭ সালে পানামার কারাগারেই তার মৃত্যু হয়।
সাদ্দাম: ইরাকে যুদ্ধ ও গ্রেফতার
ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইনকে ২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর আটক করে মার্কিন বাহিনী। এর নয় মাস আগে ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সামরিক জোট দেশটিতে হামলা চালায়।
একসময় সাদ্দাম ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র, বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধে। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তিনি আল-কায়েদাসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছেন—যার কোনো প্রমাণ মেলেনি। ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রও পাওয়া যায়নি।
নিজ শহর তিকরিতের কাছে একটি গর্তে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সাদ্দামকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ইরাকি আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
হার্নান্দেজ: বিতর্কিত দৃষ্টান্ত
হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরলান্ডো হার্নান্দেজের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ উত্থাপন করে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তেগুসিগালপায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
মাদক পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয় এবং ২০২২ সালের জুনে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে দেন। এর পরপরই হন্ডুরাসের শীর্ষ কৌঁসুলি তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি সংকট তৈরি হয়।
নতুন উত্তেজনার শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অতীত সামরিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ধারাবাহিকতায় আরেকটি বড় সংযোজন হবে। এতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে বন্দি করেছে যুক্তরাষ্ট্র—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলায় ‘বৃহৎ পরিসরের’ সামরিক অভিযানের মধ্যেই এই আটক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন।
মাদুরোকে বন্দি করার এই খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং একইসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দি হওয়া বিভিন্ন দেশের শীর্ষ সরকারপ্রধানদের ঘটনা। ইতিহাস বলছে, রাজনৈতিক ও সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে একাধিক রাষ্ট্রনেতাকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
নোরিয়েগা: পানামায় সামরিক হস্তক্ষেপ
১৯৮৯ সালে পানামায় সরাসরি সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। লক্ষ্য ছিল দেশটির সামরিক শাসক ম্যানুয়েল নোরিয়েগা। নাগরিকদের নিরাপত্তা, দুর্নীতি, অগণতান্ত্রিক শাসন ও মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে এই অভিযান চালানো হয়।
এর আগেই ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে নোরিয়েগার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়—যেমনটি এখন মাদুরোর ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। নোরিয়েগা ১৯৮৫ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস আরদিতো বারলেত্তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেন এবং ১৯৮৯ সালের নির্বাচন বাতিল করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় তিনি ওয়াশিংটনের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর পানামা অভিযান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান। নোরিয়েগাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে বিচার করা হয় এবং তিনি ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানে কারাবন্দি ছিলেন। পরে তাকে ফ্রান্স ও পরবর্তীতে পানামায় প্রত্যর্পণ করা হয়। ২০১৭ সালে পানামার কারাগারেই তার মৃত্যু হয়।
সাদ্দাম: ইরাকে যুদ্ধ ও গ্রেফতার
ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইনকে ২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর আটক করে মার্কিন বাহিনী। এর নয় মাস আগে ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সামরিক জোট দেশটিতে হামলা চালায়।
একসময় সাদ্দাম ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র, বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধে। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তিনি আল-কায়েদাসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছেন—যার কোনো প্রমাণ মেলেনি। ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রও পাওয়া যায়নি।
নিজ শহর তিকরিতের কাছে একটি গর্তে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সাদ্দামকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ইরাকি আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
হার্নান্দেজ: বিতর্কিত দৃষ্টান্ত
হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরলান্ডো হার্নান্দেজের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ উত্থাপন করে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তেগুসিগালপায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
মাদক পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয় এবং ২০২২ সালের জুনে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে দেন। এর পরপরই হন্ডুরাসের শীর্ষ কৌঁসুলি তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি সংকট তৈরি হয়।
নতুন উত্তেজনার শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অতীত সামরিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ধারাবাহিকতায় আরেকটি বড় সংযোজন হবে। এতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!