
ঢাকাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা ভাঙতে না পারলে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ‘চট্টগ্রাম কবে বাণিজ্যিক রাজধানী হবে’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। গোলটেবিল বৈঠকটির আয়োজন করে একটি গণমাধ্যম। এতে সহযোগিতা করে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড, আবুল খায়ের গ্রুপ ও টিকে গ্রুপ।
আমীর খসরু বলেন, রাজধানী হওয়ায় প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি বোঝার আগেই বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে অধিকাংশ সরকারি ও আর্থিক সেবা অনলাইনে পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে এখনো ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন কাজে সরাসরি ঢাকায় গিয়ে তদবির করতে হয়।
তিনি বলেন, ঢাকায় যেতে বাধ্য হওয়ার প্রকৃত কারণগুলো আগে চিহ্নিত করা জরুরি। কোন কোন সেবা ও সিদ্ধান্তের জন্য মানুষকে রাজধানীতে যেতে হচ্ছে, তার একটি স্পষ্ট তালিকা তৈরি করা গেলে সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।
ঢাকাকেন্দ্রিকতার পেছনের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা যেখানে কেন্দ্রীভূত থাকে, অর্থনৈতিক ক্ষমতাও ধীরে ধীরে সেখানেই চলে যায়। ফলে চট্টগ্রামের অনেক বড় ব্যবসায়ীও ব্যবসা সম্প্রসারণের স্বার্থে ঢাকায় অবস্থান করতে বাধ্য হন। কারণ, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো রাজধানীতেই হয়ে থাকে।
চট্টগ্রামকে কার্যকর বাণিজ্যিক নগরীতে রূপ দিতে হলে কিছু ক্ষেত্রে অতিনিয়ন্ত্রণ শিথিল বা ডিরেগুলেশন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা গেলে স্থানীয় সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হবে, আমলাতান্ত্রিক প্রভাব কমবে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন বাড়বে বলেও মত দেন এই বিএনপি নেতা।
চট্টগ্রামকে একটি আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে আমীর খসরু বলেন, দেশের একমাত্র উপকূলীয় সুবিধা চট্টগ্রামের রয়েছে। অন্য এলাকায় বন্দর নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। উপকূলভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা গেলে চট্টগ্রাম ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সঙ্গে সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একটি কার্যকর নগর সরকারের অভাব বড় সমস্যা। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চীনের সাংহাই শহরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে মেয়রের অধীনে একটি শক্তিশালী নগর সরকার সব কার্যক্রম সমন্বয় করে। চট্টগ্রামেও এমন কাঠামো প্রয়োজন।
সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে রেল, নদী ও সড়কপথের সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন আমীর খসরু। একই সঙ্গে নগরের যানজট কমাতে রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে স্থানান্তর এবং সরকারি-বেসরকারি সেবাগুলো অনলাইনে আনার পরামর্শ দেন তিনি।
চট্টগ্রামের পাহাড়, নদী ও সমুদ্রসহ প্রাকৃতিক সম্পদ সঠিকভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কানেকটিভিটি বাড়ানো গেলে চট্টগ্রাম শুধু দেশের নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নত করাই মূল লক্ষ্য। স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। উন্নয়নের সুফল যেন সবাই পায়, সেটিই অগ্রাধিকার। জাতীয় ঐক্য ছাড়া কোনো সরকার এককভাবে এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না।

ঢাকাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা ভাঙতে না পারলে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ‘চট্টগ্রাম কবে বাণিজ্যিক রাজধানী হবে’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। গোলটেবিল বৈঠকটির আয়োজন করে একটি গণমাধ্যম। এতে সহযোগিতা করে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড, আবুল খায়ের গ্রুপ ও টিকে গ্রুপ।
আমীর খসরু বলেন, রাজধানী হওয়ায় প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি বোঝার আগেই বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে অধিকাংশ সরকারি ও আর্থিক সেবা অনলাইনে পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে এখনো ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন কাজে সরাসরি ঢাকায় গিয়ে তদবির করতে হয়।
তিনি বলেন, ঢাকায় যেতে বাধ্য হওয়ার প্রকৃত কারণগুলো আগে চিহ্নিত করা জরুরি। কোন কোন সেবা ও সিদ্ধান্তের জন্য মানুষকে রাজধানীতে যেতে হচ্ছে, তার একটি স্পষ্ট তালিকা তৈরি করা গেলে সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।
ঢাকাকেন্দ্রিকতার পেছনের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা যেখানে কেন্দ্রীভূত থাকে, অর্থনৈতিক ক্ষমতাও ধীরে ধীরে সেখানেই চলে যায়। ফলে চট্টগ্রামের অনেক বড় ব্যবসায়ীও ব্যবসা সম্প্রসারণের স্বার্থে ঢাকায় অবস্থান করতে বাধ্য হন। কারণ, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো রাজধানীতেই হয়ে থাকে।
চট্টগ্রামকে কার্যকর বাণিজ্যিক নগরীতে রূপ দিতে হলে কিছু ক্ষেত্রে অতিনিয়ন্ত্রণ শিথিল বা ডিরেগুলেশন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা গেলে স্থানীয় সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হবে, আমলাতান্ত্রিক প্রভাব কমবে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন বাড়বে বলেও মত দেন এই বিএনপি নেতা।
চট্টগ্রামকে একটি আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে আমীর খসরু বলেন, দেশের একমাত্র উপকূলীয় সুবিধা চট্টগ্রামের রয়েছে। অন্য এলাকায় বন্দর নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। উপকূলভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা গেলে চট্টগ্রাম ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সঙ্গে সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একটি কার্যকর নগর সরকারের অভাব বড় সমস্যা। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চীনের সাংহাই শহরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে মেয়রের অধীনে একটি শক্তিশালী নগর সরকার সব কার্যক্রম সমন্বয় করে। চট্টগ্রামেও এমন কাঠামো প্রয়োজন।
সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে রেল, নদী ও সড়কপথের সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন আমীর খসরু। একই সঙ্গে নগরের যানজট কমাতে রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে স্থানান্তর এবং সরকারি-বেসরকারি সেবাগুলো অনলাইনে আনার পরামর্শ দেন তিনি।
চট্টগ্রামের পাহাড়, নদী ও সমুদ্রসহ প্রাকৃতিক সম্পদ সঠিকভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কানেকটিভিটি বাড়ানো গেলে চট্টগ্রাম শুধু দেশের নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নত করাই মূল লক্ষ্য। স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। উন্নয়নের সুফল যেন সবাই পায়, সেটিই অগ্রাধিকার। জাতীয় ঐক্য ছাড়া কোনো সরকার এককভাবে এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না।

ঢাকাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা ভাঙতে না পারলে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ‘চট্টগ্রাম কবে বাণিজ্যিক রাজধানী হবে’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। গোলটেবিল বৈঠকটির আয়োজন করে একটি গণমাধ্যম। এতে সহযোগিতা করে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড, আবুল খায়ের গ্রুপ ও টিকে গ্রুপ।
আমীর খসরু বলেন, রাজধানী হওয়ায় প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি বোঝার আগেই বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে অধিকাংশ সরকারি ও আর্থিক সেবা অনলাইনে পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে এখনো ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন কাজে সরাসরি ঢাকায় গিয়ে তদবির করতে হয়।
তিনি বলেন, ঢাকায় যেতে বাধ্য হওয়ার প্রকৃত কারণগুলো আগে চিহ্নিত করা জরুরি। কোন কোন সেবা ও সিদ্ধান্তের জন্য মানুষকে রাজধানীতে যেতে হচ্ছে, তার একটি স্পষ্ট তালিকা তৈরি করা গেলে সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।
ঢাকাকেন্দ্রিকতার পেছনের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা যেখানে কেন্দ্রীভূত থাকে, অর্থনৈতিক ক্ষমতাও ধীরে ধীরে সেখানেই চলে যায়। ফলে চট্টগ্রামের অনেক বড় ব্যবসায়ীও ব্যবসা সম্প্রসারণের স্বার্থে ঢাকায় অবস্থান করতে বাধ্য হন। কারণ, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো রাজধানীতেই হয়ে থাকে।
চট্টগ্রামকে কার্যকর বাণিজ্যিক নগরীতে রূপ দিতে হলে কিছু ক্ষেত্রে অতিনিয়ন্ত্রণ শিথিল বা ডিরেগুলেশন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা গেলে স্থানীয় সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হবে, আমলাতান্ত্রিক প্রভাব কমবে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন বাড়বে বলেও মত দেন এই বিএনপি নেতা।
চট্টগ্রামকে একটি আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে আমীর খসরু বলেন, দেশের একমাত্র উপকূলীয় সুবিধা চট্টগ্রামের রয়েছে। অন্য এলাকায় বন্দর নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। উপকূলভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা গেলে চট্টগ্রাম ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সঙ্গে সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একটি কার্যকর নগর সরকারের অভাব বড় সমস্যা। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চীনের সাংহাই শহরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে মেয়রের অধীনে একটি শক্তিশালী নগর সরকার সব কার্যক্রম সমন্বয় করে। চট্টগ্রামেও এমন কাঠামো প্রয়োজন।
সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে রেল, নদী ও সড়কপথের সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন আমীর খসরু। একই সঙ্গে নগরের যানজট কমাতে রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে স্থানান্তর এবং সরকারি-বেসরকারি সেবাগুলো অনলাইনে আনার পরামর্শ দেন তিনি।
চট্টগ্রামের পাহাড়, নদী ও সমুদ্রসহ প্রাকৃতিক সম্পদ সঠিকভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কানেকটিভিটি বাড়ানো গেলে চট্টগ্রাম শুধু দেশের নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নত করাই মূল লক্ষ্য। স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। উন্নয়নের সুফল যেন সবাই পায়, সেটিই অগ্রাধিকার। জাতীয় ঐক্য ছাড়া কোনো সরকার এককভাবে এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না।

ঢাকাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা ভাঙতে না পারলে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ‘চট্টগ্রাম কবে বাণিজ্যিক রাজধানী হবে’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। গোলটেবিল বৈঠকটির আয়োজন করে একটি গণমাধ্যম। এতে সহযোগিতা করে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড, আবুল খায়ের গ্রুপ ও টিকে গ্রুপ।
আমীর খসরু বলেন, রাজধানী হওয়ায় প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি বোঝার আগেই বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে অধিকাংশ সরকারি ও আর্থিক সেবা অনলাইনে পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে এখনো ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন কাজে সরাসরি ঢাকায় গিয়ে তদবির করতে হয়।
তিনি বলেন, ঢাকায় যেতে বাধ্য হওয়ার প্রকৃত কারণগুলো আগে চিহ্নিত করা জরুরি। কোন কোন সেবা ও সিদ্ধান্তের জন্য মানুষকে রাজধানীতে যেতে হচ্ছে, তার একটি স্পষ্ট তালিকা তৈরি করা গেলে সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।
ঢাকাকেন্দ্রিকতার পেছনের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা যেখানে কেন্দ্রীভূত থাকে, অর্থনৈতিক ক্ষমতাও ধীরে ধীরে সেখানেই চলে যায়। ফলে চট্টগ্রামের অনেক বড় ব্যবসায়ীও ব্যবসা সম্প্রসারণের স্বার্থে ঢাকায় অবস্থান করতে বাধ্য হন। কারণ, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো রাজধানীতেই হয়ে থাকে।
চট্টগ্রামকে কার্যকর বাণিজ্যিক নগরীতে রূপ দিতে হলে কিছু ক্ষেত্রে অতিনিয়ন্ত্রণ শিথিল বা ডিরেগুলেশন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা গেলে স্থানীয় সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হবে, আমলাতান্ত্রিক প্রভাব কমবে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন বাড়বে বলেও মত দেন এই বিএনপি নেতা।
চট্টগ্রামকে একটি আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে আমীর খসরু বলেন, দেশের একমাত্র উপকূলীয় সুবিধা চট্টগ্রামের রয়েছে। অন্য এলাকায় বন্দর নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। উপকূলভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা গেলে চট্টগ্রাম ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সঙ্গে সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একটি কার্যকর নগর সরকারের অভাব বড় সমস্যা। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চীনের সাংহাই শহরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে মেয়রের অধীনে একটি শক্তিশালী নগর সরকার সব কার্যক্রম সমন্বয় করে। চট্টগ্রামেও এমন কাঠামো প্রয়োজন।
সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে রেল, নদী ও সড়কপথের সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন আমীর খসরু। একই সঙ্গে নগরের যানজট কমাতে রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে স্থানান্তর এবং সরকারি-বেসরকারি সেবাগুলো অনলাইনে আনার পরামর্শ দেন তিনি।
চট্টগ্রামের পাহাড়, নদী ও সমুদ্রসহ প্রাকৃতিক সম্পদ সঠিকভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কানেকটিভিটি বাড়ানো গেলে চট্টগ্রাম শুধু দেশের নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নত করাই মূল লক্ষ্য। স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। উন্নয়নের সুফল যেন সবাই পায়, সেটিই অগ্রাধিকার। জাতীয় ঐক্য ছাড়া কোনো সরকার এককভাবে এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!