
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এতে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানজুড়ে সমন্বিত হামলা
তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখার মধ্য দিয়ে অভিযান শুরু হয়। ইসরায়েল এ হামলাকে ‘প্রতিরোধমূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ভিডিও বার্তায় জানান, ‘আসন্ন হুমকি নির্মূলের’ লক্ষ্যে এ অভিযান শুরু হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা তেহরানে ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমবেত হওয়ার স্থান ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানায়, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, খামেনিসহ সকল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জীবিত আছেন।
দক্ষিণ ইরানে মেয়েদের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ৮৫ জন নিহত হয়েছেন বলে বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট ‘মিজান অনলাইন’ জানিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি স্বতন্ত্রভাবে এ সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইরান পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে।
ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরায়েলে প্রথম দফার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পাশাপাশি তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার কথা জানায়।
ইসরায়েলি জরুরি পরিষেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আহত এক ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বিস্ফোরণ
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, রাজধানী আবুধাবিতে প্রথম দফার হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর দ্বিতীয় দফার ইরানি হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। দুবাইয়ের বাসিন্দারা শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের ঝিলিক দেখার কথা জানিয়েছেন। কৃত্রিম দ্বীপ ‘দ্য পাম’ এলাকা থেকেও ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
সৌদি আরবের রিয়াদ, বাহরাইনের মানামা এবং কাতারের দোহা থেকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কাতার ও কুয়েত তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। জর্ডান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বশক্তি প্রয়োগের অঙ্গীকার করেছে। ইরাকের এরবিলে মার্কিন কনস্যুলেটের কাছেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
ফ্রান্স: প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন।
রাশিয়া: এ হামলাকে ‘বিপজ্জনক দুঃসাহস’ আখ্যা দিয়ে আঞ্চলিক মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাজ্য: হামলা ‘ব্যাপক আঞ্চলিক যুদ্ধে’ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে।
অস্ট্রেলিয়া: ক্যানবেরা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে।
পাকিস্তান: ইরানের ওপর ‘অযৌক্তিক হামলার’ নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।
এ ছাড়া ইরানের মিত্র গোষ্ঠী হামাস ও হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
আকাশপথ বন্ধ, শত শত ফ্লাইট বাতিল
হামলার পরপরই ইরান, কাতার ও ইরাক তাদের আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। সিরিয়া দক্ষিণ সীমান্ত সংলগ্ন আকাশপথ ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। কাতার এয়ারওয়েজ দোহা থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
এ ছাড়া এয়ার ইন্ডিয়া, লুফথানসা, টার্কিশ এয়ারলাইনস এবং ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ-সহ বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে শত শত ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের আহ্বান জানালেও নতুন করে সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এতে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানজুড়ে সমন্বিত হামলা
তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখার মধ্য দিয়ে অভিযান শুরু হয়। ইসরায়েল এ হামলাকে ‘প্রতিরোধমূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ভিডিও বার্তায় জানান, ‘আসন্ন হুমকি নির্মূলের’ লক্ষ্যে এ অভিযান শুরু হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা তেহরানে ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমবেত হওয়ার স্থান ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানায়, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, খামেনিসহ সকল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জীবিত আছেন।
দক্ষিণ ইরানে মেয়েদের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ৮৫ জন নিহত হয়েছেন বলে বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট ‘মিজান অনলাইন’ জানিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি স্বতন্ত্রভাবে এ সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইরান পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে।
ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরায়েলে প্রথম দফার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পাশাপাশি তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার কথা জানায়।
ইসরায়েলি জরুরি পরিষেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আহত এক ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বিস্ফোরণ
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, রাজধানী আবুধাবিতে প্রথম দফার হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর দ্বিতীয় দফার ইরানি হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। দুবাইয়ের বাসিন্দারা শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের ঝিলিক দেখার কথা জানিয়েছেন। কৃত্রিম দ্বীপ ‘দ্য পাম’ এলাকা থেকেও ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
সৌদি আরবের রিয়াদ, বাহরাইনের মানামা এবং কাতারের দোহা থেকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কাতার ও কুয়েত তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। জর্ডান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বশক্তি প্রয়োগের অঙ্গীকার করেছে। ইরাকের এরবিলে মার্কিন কনস্যুলেটের কাছেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
ফ্রান্স: প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন।
রাশিয়া: এ হামলাকে ‘বিপজ্জনক দুঃসাহস’ আখ্যা দিয়ে আঞ্চলিক মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাজ্য: হামলা ‘ব্যাপক আঞ্চলিক যুদ্ধে’ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে।
অস্ট্রেলিয়া: ক্যানবেরা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে।
পাকিস্তান: ইরানের ওপর ‘অযৌক্তিক হামলার’ নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।
এ ছাড়া ইরানের মিত্র গোষ্ঠী হামাস ও হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
আকাশপথ বন্ধ, শত শত ফ্লাইট বাতিল
হামলার পরপরই ইরান, কাতার ও ইরাক তাদের আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। সিরিয়া দক্ষিণ সীমান্ত সংলগ্ন আকাশপথ ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। কাতার এয়ারওয়েজ দোহা থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
এ ছাড়া এয়ার ইন্ডিয়া, লুফথানসা, টার্কিশ এয়ারলাইনস এবং ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ-সহ বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে শত শত ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের আহ্বান জানালেও নতুন করে সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এতে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানজুড়ে সমন্বিত হামলা
তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখার মধ্য দিয়ে অভিযান শুরু হয়। ইসরায়েল এ হামলাকে ‘প্রতিরোধমূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ভিডিও বার্তায় জানান, ‘আসন্ন হুমকি নির্মূলের’ লক্ষ্যে এ অভিযান শুরু হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা তেহরানে ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমবেত হওয়ার স্থান ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানায়, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, খামেনিসহ সকল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জীবিত আছেন।
দক্ষিণ ইরানে মেয়েদের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ৮৫ জন নিহত হয়েছেন বলে বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট ‘মিজান অনলাইন’ জানিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি স্বতন্ত্রভাবে এ সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইরান পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে।
ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরায়েলে প্রথম দফার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পাশাপাশি তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার কথা জানায়।
ইসরায়েলি জরুরি পরিষেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আহত এক ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বিস্ফোরণ
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, রাজধানী আবুধাবিতে প্রথম দফার হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর দ্বিতীয় দফার ইরানি হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। দুবাইয়ের বাসিন্দারা শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের ঝিলিক দেখার কথা জানিয়েছেন। কৃত্রিম দ্বীপ ‘দ্য পাম’ এলাকা থেকেও ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
সৌদি আরবের রিয়াদ, বাহরাইনের মানামা এবং কাতারের দোহা থেকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কাতার ও কুয়েত তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। জর্ডান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বশক্তি প্রয়োগের অঙ্গীকার করেছে। ইরাকের এরবিলে মার্কিন কনস্যুলেটের কাছেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
ফ্রান্স: প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন।
রাশিয়া: এ হামলাকে ‘বিপজ্জনক দুঃসাহস’ আখ্যা দিয়ে আঞ্চলিক মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাজ্য: হামলা ‘ব্যাপক আঞ্চলিক যুদ্ধে’ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে।
অস্ট্রেলিয়া: ক্যানবেরা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে।
পাকিস্তান: ইরানের ওপর ‘অযৌক্তিক হামলার’ নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।
এ ছাড়া ইরানের মিত্র গোষ্ঠী হামাস ও হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
আকাশপথ বন্ধ, শত শত ফ্লাইট বাতিল
হামলার পরপরই ইরান, কাতার ও ইরাক তাদের আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। সিরিয়া দক্ষিণ সীমান্ত সংলগ্ন আকাশপথ ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। কাতার এয়ারওয়েজ দোহা থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
এ ছাড়া এয়ার ইন্ডিয়া, লুফথানসা, টার্কিশ এয়ারলাইনস এবং ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ-সহ বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে শত শত ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের আহ্বান জানালেও নতুন করে সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এতে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানজুড়ে সমন্বিত হামলা
তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখার মধ্য দিয়ে অভিযান শুরু হয়। ইসরায়েল এ হামলাকে ‘প্রতিরোধমূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ভিডিও বার্তায় জানান, ‘আসন্ন হুমকি নির্মূলের’ লক্ষ্যে এ অভিযান শুরু হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা তেহরানে ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমবেত হওয়ার স্থান ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানায়, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, খামেনিসহ সকল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জীবিত আছেন।
দক্ষিণ ইরানে মেয়েদের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ৮৫ জন নিহত হয়েছেন বলে বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট ‘মিজান অনলাইন’ জানিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি স্বতন্ত্রভাবে এ সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইরান পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে।
ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরায়েলে প্রথম দফার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পাশাপাশি তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার কথা জানায়।
ইসরায়েলি জরুরি পরিষেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আহত এক ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বিস্ফোরণ
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, রাজধানী আবুধাবিতে প্রথম দফার হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর দ্বিতীয় দফার ইরানি হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। দুবাইয়ের বাসিন্দারা শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের ঝিলিক দেখার কথা জানিয়েছেন। কৃত্রিম দ্বীপ ‘দ্য পাম’ এলাকা থেকেও ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
সৌদি আরবের রিয়াদ, বাহরাইনের মানামা এবং কাতারের দোহা থেকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কাতার ও কুয়েত তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। জর্ডান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বশক্তি প্রয়োগের অঙ্গীকার করেছে। ইরাকের এরবিলে মার্কিন কনস্যুলেটের কাছেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
ফ্রান্স: প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন।
রাশিয়া: এ হামলাকে ‘বিপজ্জনক দুঃসাহস’ আখ্যা দিয়ে আঞ্চলিক মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাজ্য: হামলা ‘ব্যাপক আঞ্চলিক যুদ্ধে’ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে।
অস্ট্রেলিয়া: ক্যানবেরা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে।
পাকিস্তান: ইরানের ওপর ‘অযৌক্তিক হামলার’ নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।
এ ছাড়া ইরানের মিত্র গোষ্ঠী হামাস ও হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
আকাশপথ বন্ধ, শত শত ফ্লাইট বাতিল
হামলার পরপরই ইরান, কাতার ও ইরাক তাদের আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। সিরিয়া দক্ষিণ সীমান্ত সংলগ্ন আকাশপথ ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। কাতার এয়ারওয়েজ দোহা থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
এ ছাড়া এয়ার ইন্ডিয়া, লুফথানসা, টার্কিশ এয়ারলাইনস এবং ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ-সহ বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে শত শত ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের আহ্বান জানালেও নতুন করে সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!