
খেজুর দিয়ে ইফতার একটি সুপরিচিত সুন্নত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তোমরা খেজুর দিয়ে ইফতার করো। যদি খেজুর না পাও, তবে পানি দিয়ে ইফতার করো, কারণ তা পবিত্রকারী। আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আল-আলিয়াহ এলাকার খেজুরে আরোগ্য রয়েছে। (মুসলিম ও মুসনাদে আহমদ)
খেজুরের গুণাগুণ ও উপকারিতা
খেজুর গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ফিনিক্স ড্যাকটাইলিফেরা এল। এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম ফলগাছগুলোর একটি, যাকে অনেকেই জীবন বৃক্ষ বলে থাকেন।
খেজুর গাছের উৎপত্তিস্থান নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ বলেন, ইরাকের বাবেল অঞ্চলে এর উৎপত্তি। আবার কেউ মনে করেন, সৌদি আরবের দারিন বা হোফ, কিংবা বাহরাইনের আরব উপসাগরীয় দ্বীপ হারকানে প্রথম জন্ম নেয় এই গাছ।
খেজুর গাছ বহুবর্ষজীবী এবং ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এ গাছে পুরুষ ও স্ত্রী উভয় ধরনের গাছ থাকে। সাধারণত রোপণের পাঁচ বছর পর স্ত্রী গাছে ফল ধরা শুরু হয়। একটি খেজুর গাছ প্রায় ১৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ
সহজে সংরক্ষণযোগ্য এই ফলটির পুষ্টিমান অত্যন্ত বেশি। বেশিরভাগ জাতের খেজুরে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজজাতীয় চিনি থাকে, যা ফলের মোট অংশের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
খেজুরে রয়েছে লোহা, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার, তামা, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। ১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ১৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। এতে থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, বায়োটিন, ফলিক অ্যাসিড ও অ্যাসকরবিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন ভিটামিনও রয়েছে। খেজুরে পানির পরিমাণ প্রায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রোটিন প্রায় ৩ শতাংশ।
এক কেজি খেজুর খাওয়ার পর শরীর প্রায় ৩৪৭০ ক্যালরি শক্তি পায়। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর এই দ্রুত শক্তি শরীরকে চাঙা করে এবং ক্ষুধা মেটাতে সহায়তা করে। তাই ইফতারে খেজুর অত্যন্ত উপকারী।
খেজুর শুধু মানুষের খাদ্য হিসেবেই নয়, পশুখাদ্যের পরিপূরক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। খেজুর থেকে সিরাপ, জ্যাম, আইসক্রিম, শিশু খাদ্য, এমনকি বিভিন্ন পানীয়ও তৈরি হয়। ফলে শহর ও গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকেও খেজুর গাছ টেকসই সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
কোরআনে খেজুর গাছ
পবিত্র কোরআনে অনেকবার খেজুর গাছের কথা এসেছে। আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির নিদর্শন ও মানুষের জন্য নিয়ামত বলা হয়েছে এ গাছকে।
সূরা আন-নাহল ১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তিনি তা দ্বারা তোমাদের জন্য উৎপন্ন করেন শস্য, জলপাই, খেজুর গাছ, আঙুর এবং সব রকম ফল। এতে অবশ্যই চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
আবার হজরত মারিয়াম আ.-এর ঘটনাতেও খেজুর গাছের কথা এসেছে। সন্তান প্রসবের বেদনায় তিনি একটি খেজুর গাছের নিচে আশ্রয় নেন। তখন তাকে বলা হয়, তুমি খেজুর গাছের কাণ্ড নাড়াও, তাতে তোমার ওপর তাজা পাকা খেজুর ঝরে পড়বে। তুমি খাও, পান করো এবং চোখ জুড়াও। (সুরা মারিয়াম, আয়াত : ২৫-২৬)।
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, পাকা খেজুরে এমন একটি উপাদান রয়েছে যা প্রসবের সময় জরায়ুর সংকোচন ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাসায়নিক সার, ক্ষতিকর স্প্রে, সালফার বা সংরক্ষণ প্রক্রিয়া ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খেজুরই সবচেয়ে ভালো। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মরুভূমি অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৬৮ ফুট নিচু এলাকায় তীব্র তাপমাত্রার মধ্যেও এ ধরনের খেজুর চাষ করা হয়।
রমজানে খেজুর দিয়ে ইফতার করা তাই শুধু সুন্নতই নয়, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও অত্যন্ত উপকারী।

খেজুর দিয়ে ইফতার একটি সুপরিচিত সুন্নত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তোমরা খেজুর দিয়ে ইফতার করো। যদি খেজুর না পাও, তবে পানি দিয়ে ইফতার করো, কারণ তা পবিত্রকারী। আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আল-আলিয়াহ এলাকার খেজুরে আরোগ্য রয়েছে। (মুসলিম ও মুসনাদে আহমদ)
খেজুরের গুণাগুণ ও উপকারিতা
খেজুর গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ফিনিক্স ড্যাকটাইলিফেরা এল। এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম ফলগাছগুলোর একটি, যাকে অনেকেই জীবন বৃক্ষ বলে থাকেন।
খেজুর গাছের উৎপত্তিস্থান নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ বলেন, ইরাকের বাবেল অঞ্চলে এর উৎপত্তি। আবার কেউ মনে করেন, সৌদি আরবের দারিন বা হোফ, কিংবা বাহরাইনের আরব উপসাগরীয় দ্বীপ হারকানে প্রথম জন্ম নেয় এই গাছ।
খেজুর গাছ বহুবর্ষজীবী এবং ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এ গাছে পুরুষ ও স্ত্রী উভয় ধরনের গাছ থাকে। সাধারণত রোপণের পাঁচ বছর পর স্ত্রী গাছে ফল ধরা শুরু হয়। একটি খেজুর গাছ প্রায় ১৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ
সহজে সংরক্ষণযোগ্য এই ফলটির পুষ্টিমান অত্যন্ত বেশি। বেশিরভাগ জাতের খেজুরে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজজাতীয় চিনি থাকে, যা ফলের মোট অংশের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
খেজুরে রয়েছে লোহা, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার, তামা, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। ১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ১৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। এতে থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, বায়োটিন, ফলিক অ্যাসিড ও অ্যাসকরবিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন ভিটামিনও রয়েছে। খেজুরে পানির পরিমাণ প্রায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রোটিন প্রায় ৩ শতাংশ।
এক কেজি খেজুর খাওয়ার পর শরীর প্রায় ৩৪৭০ ক্যালরি শক্তি পায়। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর এই দ্রুত শক্তি শরীরকে চাঙা করে এবং ক্ষুধা মেটাতে সহায়তা করে। তাই ইফতারে খেজুর অত্যন্ত উপকারী।
খেজুর শুধু মানুষের খাদ্য হিসেবেই নয়, পশুখাদ্যের পরিপূরক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। খেজুর থেকে সিরাপ, জ্যাম, আইসক্রিম, শিশু খাদ্য, এমনকি বিভিন্ন পানীয়ও তৈরি হয়। ফলে শহর ও গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকেও খেজুর গাছ টেকসই সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
কোরআনে খেজুর গাছ
পবিত্র কোরআনে অনেকবার খেজুর গাছের কথা এসেছে। আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির নিদর্শন ও মানুষের জন্য নিয়ামত বলা হয়েছে এ গাছকে।
সূরা আন-নাহল ১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তিনি তা দ্বারা তোমাদের জন্য উৎপন্ন করেন শস্য, জলপাই, খেজুর গাছ, আঙুর এবং সব রকম ফল। এতে অবশ্যই চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
আবার হজরত মারিয়াম আ.-এর ঘটনাতেও খেজুর গাছের কথা এসেছে। সন্তান প্রসবের বেদনায় তিনি একটি খেজুর গাছের নিচে আশ্রয় নেন। তখন তাকে বলা হয়, তুমি খেজুর গাছের কাণ্ড নাড়াও, তাতে তোমার ওপর তাজা পাকা খেজুর ঝরে পড়বে। তুমি খাও, পান করো এবং চোখ জুড়াও। (সুরা মারিয়াম, আয়াত : ২৫-২৬)।
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, পাকা খেজুরে এমন একটি উপাদান রয়েছে যা প্রসবের সময় জরায়ুর সংকোচন ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাসায়নিক সার, ক্ষতিকর স্প্রে, সালফার বা সংরক্ষণ প্রক্রিয়া ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খেজুরই সবচেয়ে ভালো। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মরুভূমি অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৬৮ ফুট নিচু এলাকায় তীব্র তাপমাত্রার মধ্যেও এ ধরনের খেজুর চাষ করা হয়।
রমজানে খেজুর দিয়ে ইফতার করা তাই শুধু সুন্নতই নয়, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও অত্যন্ত উপকারী।

খেজুর দিয়ে ইফতার একটি সুপরিচিত সুন্নত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তোমরা খেজুর দিয়ে ইফতার করো। যদি খেজুর না পাও, তবে পানি দিয়ে ইফতার করো, কারণ তা পবিত্রকারী। আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আল-আলিয়াহ এলাকার খেজুরে আরোগ্য রয়েছে। (মুসলিম ও মুসনাদে আহমদ)
খেজুরের গুণাগুণ ও উপকারিতা
খেজুর গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ফিনিক্স ড্যাকটাইলিফেরা এল। এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম ফলগাছগুলোর একটি, যাকে অনেকেই জীবন বৃক্ষ বলে থাকেন।
খেজুর গাছের উৎপত্তিস্থান নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ বলেন, ইরাকের বাবেল অঞ্চলে এর উৎপত্তি। আবার কেউ মনে করেন, সৌদি আরবের দারিন বা হোফ, কিংবা বাহরাইনের আরব উপসাগরীয় দ্বীপ হারকানে প্রথম জন্ম নেয় এই গাছ।
খেজুর গাছ বহুবর্ষজীবী এবং ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এ গাছে পুরুষ ও স্ত্রী উভয় ধরনের গাছ থাকে। সাধারণত রোপণের পাঁচ বছর পর স্ত্রী গাছে ফল ধরা শুরু হয়। একটি খেজুর গাছ প্রায় ১৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ
সহজে সংরক্ষণযোগ্য এই ফলটির পুষ্টিমান অত্যন্ত বেশি। বেশিরভাগ জাতের খেজুরে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজজাতীয় চিনি থাকে, যা ফলের মোট অংশের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
খেজুরে রয়েছে লোহা, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার, তামা, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। ১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ১৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। এতে থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, বায়োটিন, ফলিক অ্যাসিড ও অ্যাসকরবিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন ভিটামিনও রয়েছে। খেজুরে পানির পরিমাণ প্রায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রোটিন প্রায় ৩ শতাংশ।
এক কেজি খেজুর খাওয়ার পর শরীর প্রায় ৩৪৭০ ক্যালরি শক্তি পায়। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর এই দ্রুত শক্তি শরীরকে চাঙা করে এবং ক্ষুধা মেটাতে সহায়তা করে। তাই ইফতারে খেজুর অত্যন্ত উপকারী।
খেজুর শুধু মানুষের খাদ্য হিসেবেই নয়, পশুখাদ্যের পরিপূরক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। খেজুর থেকে সিরাপ, জ্যাম, আইসক্রিম, শিশু খাদ্য, এমনকি বিভিন্ন পানীয়ও তৈরি হয়। ফলে শহর ও গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকেও খেজুর গাছ টেকসই সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
কোরআনে খেজুর গাছ
পবিত্র কোরআনে অনেকবার খেজুর গাছের কথা এসেছে। আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির নিদর্শন ও মানুষের জন্য নিয়ামত বলা হয়েছে এ গাছকে।
সূরা আন-নাহল ১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তিনি তা দ্বারা তোমাদের জন্য উৎপন্ন করেন শস্য, জলপাই, খেজুর গাছ, আঙুর এবং সব রকম ফল। এতে অবশ্যই চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
আবার হজরত মারিয়াম আ.-এর ঘটনাতেও খেজুর গাছের কথা এসেছে। সন্তান প্রসবের বেদনায় তিনি একটি খেজুর গাছের নিচে আশ্রয় নেন। তখন তাকে বলা হয়, তুমি খেজুর গাছের কাণ্ড নাড়াও, তাতে তোমার ওপর তাজা পাকা খেজুর ঝরে পড়বে। তুমি খাও, পান করো এবং চোখ জুড়াও। (সুরা মারিয়াম, আয়াত : ২৫-২৬)।
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, পাকা খেজুরে এমন একটি উপাদান রয়েছে যা প্রসবের সময় জরায়ুর সংকোচন ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাসায়নিক সার, ক্ষতিকর স্প্রে, সালফার বা সংরক্ষণ প্রক্রিয়া ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খেজুরই সবচেয়ে ভালো। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মরুভূমি অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৬৮ ফুট নিচু এলাকায় তীব্র তাপমাত্রার মধ্যেও এ ধরনের খেজুর চাষ করা হয়।
রমজানে খেজুর দিয়ে ইফতার করা তাই শুধু সুন্নতই নয়, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও অত্যন্ত উপকারী।

খেজুর দিয়ে ইফতার একটি সুপরিচিত সুন্নত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তোমরা খেজুর দিয়ে ইফতার করো। যদি খেজুর না পাও, তবে পানি দিয়ে ইফতার করো, কারণ তা পবিত্রকারী। আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আল-আলিয়াহ এলাকার খেজুরে আরোগ্য রয়েছে। (মুসলিম ও মুসনাদে আহমদ)
খেজুরের গুণাগুণ ও উপকারিতা
খেজুর গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ফিনিক্স ড্যাকটাইলিফেরা এল। এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম ফলগাছগুলোর একটি, যাকে অনেকেই জীবন বৃক্ষ বলে থাকেন।
খেজুর গাছের উৎপত্তিস্থান নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ বলেন, ইরাকের বাবেল অঞ্চলে এর উৎপত্তি। আবার কেউ মনে করেন, সৌদি আরবের দারিন বা হোফ, কিংবা বাহরাইনের আরব উপসাগরীয় দ্বীপ হারকানে প্রথম জন্ম নেয় এই গাছ।
খেজুর গাছ বহুবর্ষজীবী এবং ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এ গাছে পুরুষ ও স্ত্রী উভয় ধরনের গাছ থাকে। সাধারণত রোপণের পাঁচ বছর পর স্ত্রী গাছে ফল ধরা শুরু হয়। একটি খেজুর গাছ প্রায় ১৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ
সহজে সংরক্ষণযোগ্য এই ফলটির পুষ্টিমান অত্যন্ত বেশি। বেশিরভাগ জাতের খেজুরে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজজাতীয় চিনি থাকে, যা ফলের মোট অংশের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
খেজুরে রয়েছে লোহা, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার, তামা, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। ১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ১৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। এতে থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, বায়োটিন, ফলিক অ্যাসিড ও অ্যাসকরবিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন ভিটামিনও রয়েছে। খেজুরে পানির পরিমাণ প্রায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রোটিন প্রায় ৩ শতাংশ।
এক কেজি খেজুর খাওয়ার পর শরীর প্রায় ৩৪৭০ ক্যালরি শক্তি পায়। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর এই দ্রুত শক্তি শরীরকে চাঙা করে এবং ক্ষুধা মেটাতে সহায়তা করে। তাই ইফতারে খেজুর অত্যন্ত উপকারী।
খেজুর শুধু মানুষের খাদ্য হিসেবেই নয়, পশুখাদ্যের পরিপূরক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। খেজুর থেকে সিরাপ, জ্যাম, আইসক্রিম, শিশু খাদ্য, এমনকি বিভিন্ন পানীয়ও তৈরি হয়। ফলে শহর ও গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকেও খেজুর গাছ টেকসই সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
কোরআনে খেজুর গাছ
পবিত্র কোরআনে অনেকবার খেজুর গাছের কথা এসেছে। আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির নিদর্শন ও মানুষের জন্য নিয়ামত বলা হয়েছে এ গাছকে।
সূরা আন-নাহল ১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তিনি তা দ্বারা তোমাদের জন্য উৎপন্ন করেন শস্য, জলপাই, খেজুর গাছ, আঙুর এবং সব রকম ফল। এতে অবশ্যই চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
আবার হজরত মারিয়াম আ.-এর ঘটনাতেও খেজুর গাছের কথা এসেছে। সন্তান প্রসবের বেদনায় তিনি একটি খেজুর গাছের নিচে আশ্রয় নেন। তখন তাকে বলা হয়, তুমি খেজুর গাছের কাণ্ড নাড়াও, তাতে তোমার ওপর তাজা পাকা খেজুর ঝরে পড়বে। তুমি খাও, পান করো এবং চোখ জুড়াও। (সুরা মারিয়াম, আয়াত : ২৫-২৬)।
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, পাকা খেজুরে এমন একটি উপাদান রয়েছে যা প্রসবের সময় জরায়ুর সংকোচন ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাসায়নিক সার, ক্ষতিকর স্প্রে, সালফার বা সংরক্ষণ প্রক্রিয়া ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খেজুরই সবচেয়ে ভালো। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মরুভূমি অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৬৮ ফুট নিচু এলাকায় তীব্র তাপমাত্রার মধ্যেও এ ধরনের খেজুর চাষ করা হয়।
রমজানে খেজুর দিয়ে ইফতার করা তাই শুধু সুন্নতই নয়, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও অত্যন্ত উপকারী।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!