
চলতি মাসের তিন সপ্তাহ থেকে হাম পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। প্রথম সপ্তাহের তুলনায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৭ শতাংশ এবং মৃত্যু বেড়েছে ১৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ শুরুর পর দ্রুত ও সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে (১-৭ মে) হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছিল আট হাজার ৩৬৭ জন রোগী। ওই সময়ে মৃত্যু হয় ৬০ শিশুর। পরে তৃতীয়-চতুর্থ সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে (১৮ থেকে ২৪ মে) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আট হাজার ৯০১-এ। এ সময়ে মৃত্যু হয় ৬৯ শিশুর।
সর্বশেষ গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে এক দিনে ১৭ জন শিশু মারা যায়। একই সময়ে সারাদেশে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৪৩৪ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক দিনে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ঢাকায় ১০ জন, রাজশাহীতে একজন, সিলেটে একজন, বরিশালে একজন, ময়মনসিংহে দুইজন এবং রংপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৪৪২ শিশুর এবং হাম শনাক্ত হওয়ার পর আরও ৮৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬৩ হাজার ৮১৩ শিশুর মধ্যে। এদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৮ শিশু। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৬ হাজার ২১৪ শিশু। এ সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে আট হাজার ৬২২ জনের।
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে
জাতিসংঘ বাংলাদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ মে পর্যন্ত দেশের সব ৬৪ জেলায় ৫৭ হাজার ৮৫৬ জন সন্দেহভাজন এবং আট হাজার ৬৭ জন নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের ৮১ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল থেকে প্রতি সপ্তাহেই সংক্রমণ উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং দৈনিক গড় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ১০০ ছাড়িয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক টিকাদান কর্মসূচির পর কিছু উপজেলায় সংক্রমণ কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও উদ্বেগ
কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে ৫৯৫ জন সন্দেহভাজন এবং ৬০ জন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে পাঁচজন। আক্রান্তদের ৬৩ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এর মধ্যে ২০ শতাংশ শিশুর বয়স ৯ মাসের নিচে, যারা নিয়মিত এমআর টিকার আওতায় ছিল না।
দেরিতে সরকারের পদক্ষেপ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সরকারের পদক্ষেপগুলো দেরিতে এসেছে। হামে আক্রান্ত শিশুকে আইসিইউ পর্যন্ত যেতে না দেওয়াই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত শনাক্তকরণ, অক্সিজেন থেরাপি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে আইসোলেশন নিশ্চিত করা জরুরি। এখনও হামের জন্য সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে উপজেলা হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতাল পর্যন্ত চিকিৎসকরা সমন্বিত নির্দেশনা পাচ্ছেন না। এ ছাড়া শিশুমৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে কোনো ডেথ রিভিউ বা ক্লিনিক্যাল অডিটও হচ্ছে না। এতে একই ভুল বারবার হওয়ার ঝুঁকি থাকছে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, যেসব শিশু মারা যাচ্ছে তাদের বড় অংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। মায়েদের পুষ্টিহীনতার কারণেও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে হাম ও এর জটিলতা মারাত্মক আকার নিচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন হামের টিকার বয়সসীমা ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। আগে দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুকেও ক্যাম্পেইনের আওতায় টিকা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।ৃ

চলতি মাসের তিন সপ্তাহ থেকে হাম পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। প্রথম সপ্তাহের তুলনায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৭ শতাংশ এবং মৃত্যু বেড়েছে ১৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ শুরুর পর দ্রুত ও সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে (১-৭ মে) হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছিল আট হাজার ৩৬৭ জন রোগী। ওই সময়ে মৃত্যু হয় ৬০ শিশুর। পরে তৃতীয়-চতুর্থ সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে (১৮ থেকে ২৪ মে) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আট হাজার ৯০১-এ। এ সময়ে মৃত্যু হয় ৬৯ শিশুর।
সর্বশেষ গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে এক দিনে ১৭ জন শিশু মারা যায়। একই সময়ে সারাদেশে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৪৩৪ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক দিনে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ঢাকায় ১০ জন, রাজশাহীতে একজন, সিলেটে একজন, বরিশালে একজন, ময়মনসিংহে দুইজন এবং রংপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৪৪২ শিশুর এবং হাম শনাক্ত হওয়ার পর আরও ৮৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬৩ হাজার ৮১৩ শিশুর মধ্যে। এদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৮ শিশু। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৬ হাজার ২১৪ শিশু। এ সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে আট হাজার ৬২২ জনের।
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে
জাতিসংঘ বাংলাদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ মে পর্যন্ত দেশের সব ৬৪ জেলায় ৫৭ হাজার ৮৫৬ জন সন্দেহভাজন এবং আট হাজার ৬৭ জন নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের ৮১ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল থেকে প্রতি সপ্তাহেই সংক্রমণ উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং দৈনিক গড় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ১০০ ছাড়িয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক টিকাদান কর্মসূচির পর কিছু উপজেলায় সংক্রমণ কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও উদ্বেগ
কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে ৫৯৫ জন সন্দেহভাজন এবং ৬০ জন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে পাঁচজন। আক্রান্তদের ৬৩ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এর মধ্যে ২০ শতাংশ শিশুর বয়স ৯ মাসের নিচে, যারা নিয়মিত এমআর টিকার আওতায় ছিল না।
দেরিতে সরকারের পদক্ষেপ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সরকারের পদক্ষেপগুলো দেরিতে এসেছে। হামে আক্রান্ত শিশুকে আইসিইউ পর্যন্ত যেতে না দেওয়াই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত শনাক্তকরণ, অক্সিজেন থেরাপি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে আইসোলেশন নিশ্চিত করা জরুরি। এখনও হামের জন্য সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে উপজেলা হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতাল পর্যন্ত চিকিৎসকরা সমন্বিত নির্দেশনা পাচ্ছেন না। এ ছাড়া শিশুমৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে কোনো ডেথ রিভিউ বা ক্লিনিক্যাল অডিটও হচ্ছে না। এতে একই ভুল বারবার হওয়ার ঝুঁকি থাকছে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, যেসব শিশু মারা যাচ্ছে তাদের বড় অংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। মায়েদের পুষ্টিহীনতার কারণেও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে হাম ও এর জটিলতা মারাত্মক আকার নিচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন হামের টিকার বয়সসীমা ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। আগে দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুকেও ক্যাম্পেইনের আওতায় টিকা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।ৃ

চলতি মাসের তিন সপ্তাহ থেকে হাম পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। প্রথম সপ্তাহের তুলনায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৭ শতাংশ এবং মৃত্যু বেড়েছে ১৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ শুরুর পর দ্রুত ও সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে (১-৭ মে) হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছিল আট হাজার ৩৬৭ জন রোগী। ওই সময়ে মৃত্যু হয় ৬০ শিশুর। পরে তৃতীয়-চতুর্থ সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে (১৮ থেকে ২৪ মে) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আট হাজার ৯০১-এ। এ সময়ে মৃত্যু হয় ৬৯ শিশুর।
সর্বশেষ গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে এক দিনে ১৭ জন শিশু মারা যায়। একই সময়ে সারাদেশে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৪৩৪ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক দিনে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ঢাকায় ১০ জন, রাজশাহীতে একজন, সিলেটে একজন, বরিশালে একজন, ময়মনসিংহে দুইজন এবং রংপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৪৪২ শিশুর এবং হাম শনাক্ত হওয়ার পর আরও ৮৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬৩ হাজার ৮১৩ শিশুর মধ্যে। এদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৮ শিশু। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৬ হাজার ২১৪ শিশু। এ সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে আট হাজার ৬২২ জনের।
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে
জাতিসংঘ বাংলাদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ মে পর্যন্ত দেশের সব ৬৪ জেলায় ৫৭ হাজার ৮৫৬ জন সন্দেহভাজন এবং আট হাজার ৬৭ জন নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের ৮১ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল থেকে প্রতি সপ্তাহেই সংক্রমণ উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং দৈনিক গড় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ১০০ ছাড়িয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক টিকাদান কর্মসূচির পর কিছু উপজেলায় সংক্রমণ কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও উদ্বেগ
কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে ৫৯৫ জন সন্দেহভাজন এবং ৬০ জন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে পাঁচজন। আক্রান্তদের ৬৩ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এর মধ্যে ২০ শতাংশ শিশুর বয়স ৯ মাসের নিচে, যারা নিয়মিত এমআর টিকার আওতায় ছিল না।
দেরিতে সরকারের পদক্ষেপ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সরকারের পদক্ষেপগুলো দেরিতে এসেছে। হামে আক্রান্ত শিশুকে আইসিইউ পর্যন্ত যেতে না দেওয়াই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত শনাক্তকরণ, অক্সিজেন থেরাপি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে আইসোলেশন নিশ্চিত করা জরুরি। এখনও হামের জন্য সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে উপজেলা হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতাল পর্যন্ত চিকিৎসকরা সমন্বিত নির্দেশনা পাচ্ছেন না। এ ছাড়া শিশুমৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে কোনো ডেথ রিভিউ বা ক্লিনিক্যাল অডিটও হচ্ছে না। এতে একই ভুল বারবার হওয়ার ঝুঁকি থাকছে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, যেসব শিশু মারা যাচ্ছে তাদের বড় অংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। মায়েদের পুষ্টিহীনতার কারণেও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে হাম ও এর জটিলতা মারাত্মক আকার নিচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন হামের টিকার বয়সসীমা ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। আগে দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুকেও ক্যাম্পেইনের আওতায় টিকা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।ৃ

চলতি মাসের তিন সপ্তাহ থেকে হাম পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। প্রথম সপ্তাহের তুলনায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৭ শতাংশ এবং মৃত্যু বেড়েছে ১৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ শুরুর পর দ্রুত ও সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে (১-৭ মে) হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছিল আট হাজার ৩৬৭ জন রোগী। ওই সময়ে মৃত্যু হয় ৬০ শিশুর। পরে তৃতীয়-চতুর্থ সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে (১৮ থেকে ২৪ মে) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আট হাজার ৯০১-এ। এ সময়ে মৃত্যু হয় ৬৯ শিশুর।
সর্বশেষ গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে এক দিনে ১৭ জন শিশু মারা যায়। একই সময়ে সারাদেশে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৪৩৪ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক দিনে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ঢাকায় ১০ জন, রাজশাহীতে একজন, সিলেটে একজন, বরিশালে একজন, ময়মনসিংহে দুইজন এবং রংপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৪৪২ শিশুর এবং হাম শনাক্ত হওয়ার পর আরও ৮৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬৩ হাজার ৮১৩ শিশুর মধ্যে। এদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৮ শিশু। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৬ হাজার ২১৪ শিশু। এ সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে আট হাজার ৬২২ জনের।
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে
জাতিসংঘ বাংলাদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ মে পর্যন্ত দেশের সব ৬৪ জেলায় ৫৭ হাজার ৮৫৬ জন সন্দেহভাজন এবং আট হাজার ৬৭ জন নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের ৮১ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল থেকে প্রতি সপ্তাহেই সংক্রমণ উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং দৈনিক গড় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ১০০ ছাড়িয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক টিকাদান কর্মসূচির পর কিছু উপজেলায় সংক্রমণ কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও উদ্বেগ
কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে ৫৯৫ জন সন্দেহভাজন এবং ৬০ জন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে পাঁচজন। আক্রান্তদের ৬৩ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এর মধ্যে ২০ শতাংশ শিশুর বয়স ৯ মাসের নিচে, যারা নিয়মিত এমআর টিকার আওতায় ছিল না।
দেরিতে সরকারের পদক্ষেপ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সরকারের পদক্ষেপগুলো দেরিতে এসেছে। হামে আক্রান্ত শিশুকে আইসিইউ পর্যন্ত যেতে না দেওয়াই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত শনাক্তকরণ, অক্সিজেন থেরাপি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে আইসোলেশন নিশ্চিত করা জরুরি। এখনও হামের জন্য সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে উপজেলা হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতাল পর্যন্ত চিকিৎসকরা সমন্বিত নির্দেশনা পাচ্ছেন না। এ ছাড়া শিশুমৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে কোনো ডেথ রিভিউ বা ক্লিনিক্যাল অডিটও হচ্ছে না। এতে একই ভুল বারবার হওয়ার ঝুঁকি থাকছে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, যেসব শিশু মারা যাচ্ছে তাদের বড় অংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। মায়েদের পুষ্টিহীনতার কারণেও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে হাম ও এর জটিলতা মারাত্মক আকার নিচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন হামের টিকার বয়সসীমা ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। আগে দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুকেও ক্যাম্পেইনের আওতায় টিকা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।ৃ
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!