
দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা করে বাড়ানোর পর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে সবজি, ডিম, দুধ, আটা-ময়দা, মাছ ও ফলের দাম। তবে গরু-খাসির মাংস, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। চালের দামেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে।
মিরপুর-১ নম্বর কাঁচাবাজারে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা।
করলা মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগে এর দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। ছোট পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে হয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আগে এসব সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।
ঝিঙা, ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দামও ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা ও কাঁচামরিচ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা রাসেল হোসেন বলেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেও সবজির দাম বেড়েছে।
ব্যবসায়ী মিজান বলেন, যশোর থেকে কারওয়ান বাজারে বেগুন আনা হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৮ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে ২১ হাজার টাকা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বেগুনের দামে।
জ্বালানির খরচ বাড়ায় মাছ পরিবহনেও অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তাদের হিসাবে, প্রতি ট্রাকে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হচ্ছে। এর প্রভাবে মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ইলিশের দামও বেড়েছে।
এদিকে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি আগের মতোই যথাক্রমে ১৮০ ও ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩৫০ টাকা হয়েছে।
ব্রয়লার সাদা ডিমের দাম ১৪০ টাকা ডজনেই রয়েছে। তবে ব্রাউন ডিমের দাম বেড়ে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা হয়েছে। গত সপ্তাহে এ ডিমের দাম ছিল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন।
গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পাস্তুরিত তরল দুধের দামও বেড়েছে। কয়েকটি বেসরকারি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল।
আটা-ময়দার দামও বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি ৭০ টাকা এবং ময়দা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে এগুলোর দাম ছিল যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ টাকা।
খোলা আটা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ-ছয় দিনের ব্যবধানে এসব পণ্যের দামও কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে।
মহাখালী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী বিকাশ বণিক বলেন, এক-দেড় মাস আগে আটা-ময়দার দাম বেড়েছিল। এখন আবার দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে বাজারে আসা দুই কেজির প্যাকেটজাত আটার দাম ১৪০ টাকা এবং ময়দার দাম ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফলের বাজারেও দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি মালটা ও কমলা ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং আপেল ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল আঙুরের দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। ব্যবসায়ীরা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়বে—বিষয়টি এমন নয়। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে কিলোমিটারপ্রতি পরিবহন ব্যয় কতটা বাড়বে এবং বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ে এর প্রভাব কতটা পড়বে, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের দ্রুত এ বিষয়ে বিশ্লেষণ দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় গ্রাম থেকে ঢাকায় সবজি আনতে কেজিপ্রতি পাঁচ বা ১০ পয়সা বাড়তি খরচ হতে পারে। এ ধরনের তথ্য-উপাত্ত হাতে থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বাজার তদারকি করতে পারবে এবং ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে বাজারে পণ্যের দামে সামান্য প্রভাব পড়ার কথা। তবে কিছু ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পরিবহন ভাড়া কেজিতে ২৫ পয়সা বাড়ার অজুহাতে পণ্যের দাম অতিরিক্ত বাড়িয়ে মুনাফা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, প্রতিদিন বাজার তদারকি করা হচ্ছে। পরিবহন ভাড়া কতটা বাড়ছে এবং এর বিপরীতে পণ্যের দাম কতটা বাড়ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং নজরদারি আরও কঠোর করা হবে। সূত্র: সমকাল

দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা করে বাড়ানোর পর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে সবজি, ডিম, দুধ, আটা-ময়দা, মাছ ও ফলের দাম। তবে গরু-খাসির মাংস, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। চালের দামেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে।
মিরপুর-১ নম্বর কাঁচাবাজারে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা।
করলা মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগে এর দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। ছোট পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে হয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আগে এসব সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।
ঝিঙা, ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দামও ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা ও কাঁচামরিচ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা রাসেল হোসেন বলেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেও সবজির দাম বেড়েছে।
ব্যবসায়ী মিজান বলেন, যশোর থেকে কারওয়ান বাজারে বেগুন আনা হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৮ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে ২১ হাজার টাকা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বেগুনের দামে।
জ্বালানির খরচ বাড়ায় মাছ পরিবহনেও অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তাদের হিসাবে, প্রতি ট্রাকে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হচ্ছে। এর প্রভাবে মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ইলিশের দামও বেড়েছে।
এদিকে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি আগের মতোই যথাক্রমে ১৮০ ও ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩৫০ টাকা হয়েছে।
ব্রয়লার সাদা ডিমের দাম ১৪০ টাকা ডজনেই রয়েছে। তবে ব্রাউন ডিমের দাম বেড়ে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা হয়েছে। গত সপ্তাহে এ ডিমের দাম ছিল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন।
গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পাস্তুরিত তরল দুধের দামও বেড়েছে। কয়েকটি বেসরকারি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল।
আটা-ময়দার দামও বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি ৭০ টাকা এবং ময়দা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে এগুলোর দাম ছিল যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ টাকা।
খোলা আটা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ-ছয় দিনের ব্যবধানে এসব পণ্যের দামও কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে।
মহাখালী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী বিকাশ বণিক বলেন, এক-দেড় মাস আগে আটা-ময়দার দাম বেড়েছিল। এখন আবার দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে বাজারে আসা দুই কেজির প্যাকেটজাত আটার দাম ১৪০ টাকা এবং ময়দার দাম ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফলের বাজারেও দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি মালটা ও কমলা ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং আপেল ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল আঙুরের দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। ব্যবসায়ীরা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়বে—বিষয়টি এমন নয়। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে কিলোমিটারপ্রতি পরিবহন ব্যয় কতটা বাড়বে এবং বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ে এর প্রভাব কতটা পড়বে, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের দ্রুত এ বিষয়ে বিশ্লেষণ দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় গ্রাম থেকে ঢাকায় সবজি আনতে কেজিপ্রতি পাঁচ বা ১০ পয়সা বাড়তি খরচ হতে পারে। এ ধরনের তথ্য-উপাত্ত হাতে থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বাজার তদারকি করতে পারবে এবং ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে বাজারে পণ্যের দামে সামান্য প্রভাব পড়ার কথা। তবে কিছু ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পরিবহন ভাড়া কেজিতে ২৫ পয়সা বাড়ার অজুহাতে পণ্যের দাম অতিরিক্ত বাড়িয়ে মুনাফা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, প্রতিদিন বাজার তদারকি করা হচ্ছে। পরিবহন ভাড়া কতটা বাড়ছে এবং এর বিপরীতে পণ্যের দাম কতটা বাড়ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং নজরদারি আরও কঠোর করা হবে। সূত্র: সমকাল

দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা করে বাড়ানোর পর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে সবজি, ডিম, দুধ, আটা-ময়দা, মাছ ও ফলের দাম। তবে গরু-খাসির মাংস, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। চালের দামেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে।
মিরপুর-১ নম্বর কাঁচাবাজারে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা।
করলা মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগে এর দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। ছোট পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে হয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আগে এসব সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।
ঝিঙা, ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দামও ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা ও কাঁচামরিচ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা রাসেল হোসেন বলেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেও সবজির দাম বেড়েছে।
ব্যবসায়ী মিজান বলেন, যশোর থেকে কারওয়ান বাজারে বেগুন আনা হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৮ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে ২১ হাজার টাকা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বেগুনের দামে।
জ্বালানির খরচ বাড়ায় মাছ পরিবহনেও অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তাদের হিসাবে, প্রতি ট্রাকে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হচ্ছে। এর প্রভাবে মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ইলিশের দামও বেড়েছে।
এদিকে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি আগের মতোই যথাক্রমে ১৮০ ও ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩৫০ টাকা হয়েছে।
ব্রয়লার সাদা ডিমের দাম ১৪০ টাকা ডজনেই রয়েছে। তবে ব্রাউন ডিমের দাম বেড়ে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা হয়েছে। গত সপ্তাহে এ ডিমের দাম ছিল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন।
গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পাস্তুরিত তরল দুধের দামও বেড়েছে। কয়েকটি বেসরকারি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল।
আটা-ময়দার দামও বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি ৭০ টাকা এবং ময়দা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে এগুলোর দাম ছিল যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ টাকা।
খোলা আটা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ-ছয় দিনের ব্যবধানে এসব পণ্যের দামও কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে।
মহাখালী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী বিকাশ বণিক বলেন, এক-দেড় মাস আগে আটা-ময়দার দাম বেড়েছিল। এখন আবার দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে বাজারে আসা দুই কেজির প্যাকেটজাত আটার দাম ১৪০ টাকা এবং ময়দার দাম ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফলের বাজারেও দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি মালটা ও কমলা ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং আপেল ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল আঙুরের দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। ব্যবসায়ীরা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়বে—বিষয়টি এমন নয়। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে কিলোমিটারপ্রতি পরিবহন ব্যয় কতটা বাড়বে এবং বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ে এর প্রভাব কতটা পড়বে, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের দ্রুত এ বিষয়ে বিশ্লেষণ দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় গ্রাম থেকে ঢাকায় সবজি আনতে কেজিপ্রতি পাঁচ বা ১০ পয়সা বাড়তি খরচ হতে পারে। এ ধরনের তথ্য-উপাত্ত হাতে থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বাজার তদারকি করতে পারবে এবং ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে বাজারে পণ্যের দামে সামান্য প্রভাব পড়ার কথা। তবে কিছু ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পরিবহন ভাড়া কেজিতে ২৫ পয়সা বাড়ার অজুহাতে পণ্যের দাম অতিরিক্ত বাড়িয়ে মুনাফা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, প্রতিদিন বাজার তদারকি করা হচ্ছে। পরিবহন ভাড়া কতটা বাড়ছে এবং এর বিপরীতে পণ্যের দাম কতটা বাড়ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং নজরদারি আরও কঠোর করা হবে। সূত্র: সমকাল

দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা করে বাড়ানোর পর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে সবজি, ডিম, দুধ, আটা-ময়দা, মাছ ও ফলের দাম। তবে গরু-খাসির মাংস, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। চালের দামেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে।
মিরপুর-১ নম্বর কাঁচাবাজারে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা।
করলা মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগে এর দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। ছোট পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে হয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আগে এসব সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।
ঝিঙা, ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দামও ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা ও কাঁচামরিচ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা রাসেল হোসেন বলেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেও সবজির দাম বেড়েছে।
ব্যবসায়ী মিজান বলেন, যশোর থেকে কারওয়ান বাজারে বেগুন আনা হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৮ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে ২১ হাজার টাকা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বেগুনের দামে।
জ্বালানির খরচ বাড়ায় মাছ পরিবহনেও অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তাদের হিসাবে, প্রতি ট্রাকে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হচ্ছে। এর প্রভাবে মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ইলিশের দামও বেড়েছে।
এদিকে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি আগের মতোই যথাক্রমে ১৮০ ও ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩৫০ টাকা হয়েছে।
ব্রয়লার সাদা ডিমের দাম ১৪০ টাকা ডজনেই রয়েছে। তবে ব্রাউন ডিমের দাম বেড়ে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা হয়েছে। গত সপ্তাহে এ ডিমের দাম ছিল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন।
গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পাস্তুরিত তরল দুধের দামও বেড়েছে। কয়েকটি বেসরকারি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল।
আটা-ময়দার দামও বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি ৭০ টাকা এবং ময়দা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে এগুলোর দাম ছিল যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ টাকা।
খোলা আটা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ-ছয় দিনের ব্যবধানে এসব পণ্যের দামও কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে।
মহাখালী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী বিকাশ বণিক বলেন, এক-দেড় মাস আগে আটা-ময়দার দাম বেড়েছিল। এখন আবার দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে বাজারে আসা দুই কেজির প্যাকেটজাত আটার দাম ১৪০ টাকা এবং ময়দার দাম ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফলের বাজারেও দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি মালটা ও কমলা ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং আপেল ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল আঙুরের দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। ব্যবসায়ীরা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়বে—বিষয়টি এমন নয়। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে কিলোমিটারপ্রতি পরিবহন ব্যয় কতটা বাড়বে এবং বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ে এর প্রভাব কতটা পড়বে, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের দ্রুত এ বিষয়ে বিশ্লেষণ দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় গ্রাম থেকে ঢাকায় সবজি আনতে কেজিপ্রতি পাঁচ বা ১০ পয়সা বাড়তি খরচ হতে পারে। এ ধরনের তথ্য-উপাত্ত হাতে থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বাজার তদারকি করতে পারবে এবং ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে বাজারে পণ্যের দামে সামান্য প্রভাব পড়ার কথা। তবে কিছু ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পরিবহন ভাড়া কেজিতে ২৫ পয়সা বাড়ার অজুহাতে পণ্যের দাম অতিরিক্ত বাড়িয়ে মুনাফা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, প্রতিদিন বাজার তদারকি করা হচ্ছে। পরিবহন ভাড়া কতটা বাড়ছে এবং এর বিপরীতে পণ্যের দাম কতটা বাড়ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং নজরদারি আরও কঠোর করা হবে। সূত্র: সমকাল
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!