
দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে ২০২৫ সালটি নিষ্ক্রিয়তা, স্থবিরতা ও বিনিয়োগকারীদের হতাশার বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সূচক, লেনদেন, বিনিয়োগ, সংস্কার-সব সূচকেই বছরজুড়ে ছিল নেতিবাচক প্রবণতা। কাঙ্ক্ষিত কোনো গতি বা আস্থার পুনরুদ্ধার না হওয়ায় পুরো বছরজুড়েই বাজারে বিরাজ করেছে হতাশা।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসে। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। বিনিয়োগকারীরা আশা করেছিলেন, এবার হয়তো অনিয়ম-দুর্নীতির অবসান ঘটবে, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।
তবে বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। নতুন কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাজারে শুরু হয় ধারাবাহিক পতন। গত ১৬ মাসে বিনিয়োগকারীদের হতাশা আরও বেড়েছে। এই সময়ে বাজার থেকে হারিয়ে গেছে লাখো কোটি টাকার পুঁজি।
বাজার উন্নয়নের নামে নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি দেওয়ার বদলে আতঙ্ক বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ বাজার সংশ্লিষ্টদের। জরিমানা, বিও হিসাব ফ্রিজসহ নানা কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে লেনদেন কমেছে, অনেক বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন। বড় অঙ্কের জরিমানার ঘোষণা এলেও বাস্তবে সেগুলোর কার্যকর আদায় হয়নি। সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও একটি উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি।
কথার সংস্কার, বাস্তবের সংকট
২০২৫ সালে পুঁজিবাজার সংস্কার নিয়ে আলোচনা থাকলেও বাস্তবে তা সীমাবদ্ধ ছিল কয়েকটি বিধিমালায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বাজার অংশীজনদের মধ্যে দূরত্ব ছিল স্পষ্ট। গঠিত পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স থেকেও কার্যকর কোনো ফল আসেনি।
বছরের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল মার্জিন ঋণ ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা প্রণয়ন। তবে মার্জিন বিধিমালার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে এবং মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
আইপিও ও বিনিয়োগ কার্যত বন্ধ
২০২৫ সালে একটি আইপিও বা কিউআইও প্রস্তাবেরও অনুমোদন দিতে পারেনি বিএসইসি। নতুন আইপিও নীতিমালা সংস্কারের অজুহাতে প্রস্তাব গ্রহণও বন্ধ রয়েছে। ফলে দেড় বছর ধরে বাজারে নতুন পুঁজি প্রবেশ কার্যত বন্ধ।
বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ছিল স্থবিরতা। যেখানে ২০২৪ সালে ১১টি প্রতিষ্ঠান বন্ডের মাধ্যমে প্রায় ১৬ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা তুলেছিল, সেখানে ২০২৫ সালে অনুমোদন পেয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
সূচক ও লেনদেন তলানিতে
বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ডিএসইএক্স কমেছে প্রায় ৩৫১ পয়েন্ট। দৈনিক গড় লেনদেন কমে দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ কম। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ৬১ শতাংশের শেয়ারের দাম কমেছে।
বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারেজ সংকটে
সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, বছরে ৪২ হাজারের বেশি বিও হিসাব কমেছে। শেয়ারশূন্য বিও হিসাব বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে না পেরে অন্তত ১১৭টি ব্রোকারেজ অফিস বন্ধ হয়ে গেছে।
দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বাড়াচ্ছে তালিকাচ্যুতি
পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আটটি এনবিএফআই তালিকাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত বাজারে বড় ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম টাকার নিচে নেমে যাওয়ায় ইতিহাসের নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৫ সালে পুঁজিবাজারের সংকট কোনো একক সিদ্ধান্তের ফল নয়; এটি দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যে সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুতই ম্লান হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল পুঁজিবাজারে কোনো বড় ধাক্কা দিয়ে ভাঙেনি; বরং ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিঃশেষ করেছে-এমনটাই মত বাজার বিশ্লেষকদের।

দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে ২০২৫ সালটি নিষ্ক্রিয়তা, স্থবিরতা ও বিনিয়োগকারীদের হতাশার বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সূচক, লেনদেন, বিনিয়োগ, সংস্কার-সব সূচকেই বছরজুড়ে ছিল নেতিবাচক প্রবণতা। কাঙ্ক্ষিত কোনো গতি বা আস্থার পুনরুদ্ধার না হওয়ায় পুরো বছরজুড়েই বাজারে বিরাজ করেছে হতাশা।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসে। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। বিনিয়োগকারীরা আশা করেছিলেন, এবার হয়তো অনিয়ম-দুর্নীতির অবসান ঘটবে, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।
তবে বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। নতুন কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাজারে শুরু হয় ধারাবাহিক পতন। গত ১৬ মাসে বিনিয়োগকারীদের হতাশা আরও বেড়েছে। এই সময়ে বাজার থেকে হারিয়ে গেছে লাখো কোটি টাকার পুঁজি।
বাজার উন্নয়নের নামে নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি দেওয়ার বদলে আতঙ্ক বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ বাজার সংশ্লিষ্টদের। জরিমানা, বিও হিসাব ফ্রিজসহ নানা কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে লেনদেন কমেছে, অনেক বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন। বড় অঙ্কের জরিমানার ঘোষণা এলেও বাস্তবে সেগুলোর কার্যকর আদায় হয়নি। সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও একটি উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি।
কথার সংস্কার, বাস্তবের সংকট
২০২৫ সালে পুঁজিবাজার সংস্কার নিয়ে আলোচনা থাকলেও বাস্তবে তা সীমাবদ্ধ ছিল কয়েকটি বিধিমালায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বাজার অংশীজনদের মধ্যে দূরত্ব ছিল স্পষ্ট। গঠিত পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স থেকেও কার্যকর কোনো ফল আসেনি।
বছরের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল মার্জিন ঋণ ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা প্রণয়ন। তবে মার্জিন বিধিমালার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে এবং মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
আইপিও ও বিনিয়োগ কার্যত বন্ধ
২০২৫ সালে একটি আইপিও বা কিউআইও প্রস্তাবেরও অনুমোদন দিতে পারেনি বিএসইসি। নতুন আইপিও নীতিমালা সংস্কারের অজুহাতে প্রস্তাব গ্রহণও বন্ধ রয়েছে। ফলে দেড় বছর ধরে বাজারে নতুন পুঁজি প্রবেশ কার্যত বন্ধ।
বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ছিল স্থবিরতা। যেখানে ২০২৪ সালে ১১টি প্রতিষ্ঠান বন্ডের মাধ্যমে প্রায় ১৬ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা তুলেছিল, সেখানে ২০২৫ সালে অনুমোদন পেয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
সূচক ও লেনদেন তলানিতে
বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ডিএসইএক্স কমেছে প্রায় ৩৫১ পয়েন্ট। দৈনিক গড় লেনদেন কমে দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ কম। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ৬১ শতাংশের শেয়ারের দাম কমেছে।
বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারেজ সংকটে
সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, বছরে ৪২ হাজারের বেশি বিও হিসাব কমেছে। শেয়ারশূন্য বিও হিসাব বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে না পেরে অন্তত ১১৭টি ব্রোকারেজ অফিস বন্ধ হয়ে গেছে।
দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বাড়াচ্ছে তালিকাচ্যুতি
পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আটটি এনবিএফআই তালিকাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত বাজারে বড় ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম টাকার নিচে নেমে যাওয়ায় ইতিহাসের নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৫ সালে পুঁজিবাজারের সংকট কোনো একক সিদ্ধান্তের ফল নয়; এটি দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যে সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুতই ম্লান হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল পুঁজিবাজারে কোনো বড় ধাক্কা দিয়ে ভাঙেনি; বরং ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিঃশেষ করেছে-এমনটাই মত বাজার বিশ্লেষকদের।

দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে ২০২৫ সালটি নিষ্ক্রিয়তা, স্থবিরতা ও বিনিয়োগকারীদের হতাশার বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সূচক, লেনদেন, বিনিয়োগ, সংস্কার-সব সূচকেই বছরজুড়ে ছিল নেতিবাচক প্রবণতা। কাঙ্ক্ষিত কোনো গতি বা আস্থার পুনরুদ্ধার না হওয়ায় পুরো বছরজুড়েই বাজারে বিরাজ করেছে হতাশা।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসে। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। বিনিয়োগকারীরা আশা করেছিলেন, এবার হয়তো অনিয়ম-দুর্নীতির অবসান ঘটবে, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।
তবে বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। নতুন কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাজারে শুরু হয় ধারাবাহিক পতন। গত ১৬ মাসে বিনিয়োগকারীদের হতাশা আরও বেড়েছে। এই সময়ে বাজার থেকে হারিয়ে গেছে লাখো কোটি টাকার পুঁজি।
বাজার উন্নয়নের নামে নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি দেওয়ার বদলে আতঙ্ক বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ বাজার সংশ্লিষ্টদের। জরিমানা, বিও হিসাব ফ্রিজসহ নানা কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে লেনদেন কমেছে, অনেক বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন। বড় অঙ্কের জরিমানার ঘোষণা এলেও বাস্তবে সেগুলোর কার্যকর আদায় হয়নি। সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও একটি উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি।
কথার সংস্কার, বাস্তবের সংকট
২০২৫ সালে পুঁজিবাজার সংস্কার নিয়ে আলোচনা থাকলেও বাস্তবে তা সীমাবদ্ধ ছিল কয়েকটি বিধিমালায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বাজার অংশীজনদের মধ্যে দূরত্ব ছিল স্পষ্ট। গঠিত পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স থেকেও কার্যকর কোনো ফল আসেনি।
বছরের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল মার্জিন ঋণ ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা প্রণয়ন। তবে মার্জিন বিধিমালার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে এবং মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
আইপিও ও বিনিয়োগ কার্যত বন্ধ
২০২৫ সালে একটি আইপিও বা কিউআইও প্রস্তাবেরও অনুমোদন দিতে পারেনি বিএসইসি। নতুন আইপিও নীতিমালা সংস্কারের অজুহাতে প্রস্তাব গ্রহণও বন্ধ রয়েছে। ফলে দেড় বছর ধরে বাজারে নতুন পুঁজি প্রবেশ কার্যত বন্ধ।
বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ছিল স্থবিরতা। যেখানে ২০২৪ সালে ১১টি প্রতিষ্ঠান বন্ডের মাধ্যমে প্রায় ১৬ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা তুলেছিল, সেখানে ২০২৫ সালে অনুমোদন পেয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
সূচক ও লেনদেন তলানিতে
বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ডিএসইএক্স কমেছে প্রায় ৩৫১ পয়েন্ট। দৈনিক গড় লেনদেন কমে দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ কম। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ৬১ শতাংশের শেয়ারের দাম কমেছে।
বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারেজ সংকটে
সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, বছরে ৪২ হাজারের বেশি বিও হিসাব কমেছে। শেয়ারশূন্য বিও হিসাব বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে না পেরে অন্তত ১১৭টি ব্রোকারেজ অফিস বন্ধ হয়ে গেছে।
দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বাড়াচ্ছে তালিকাচ্যুতি
পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আটটি এনবিএফআই তালিকাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত বাজারে বড় ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম টাকার নিচে নেমে যাওয়ায় ইতিহাসের নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৫ সালে পুঁজিবাজারের সংকট কোনো একক সিদ্ধান্তের ফল নয়; এটি দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যে সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুতই ম্লান হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল পুঁজিবাজারে কোনো বড় ধাক্কা দিয়ে ভাঙেনি; বরং ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিঃশেষ করেছে-এমনটাই মত বাজার বিশ্লেষকদের।

দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে ২০২৫ সালটি নিষ্ক্রিয়তা, স্থবিরতা ও বিনিয়োগকারীদের হতাশার বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সূচক, লেনদেন, বিনিয়োগ, সংস্কার-সব সূচকেই বছরজুড়ে ছিল নেতিবাচক প্রবণতা। কাঙ্ক্ষিত কোনো গতি বা আস্থার পুনরুদ্ধার না হওয়ায় পুরো বছরজুড়েই বাজারে বিরাজ করেছে হতাশা।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসে। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। বিনিয়োগকারীরা আশা করেছিলেন, এবার হয়তো অনিয়ম-দুর্নীতির অবসান ঘটবে, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।
তবে বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। নতুন কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাজারে শুরু হয় ধারাবাহিক পতন। গত ১৬ মাসে বিনিয়োগকারীদের হতাশা আরও বেড়েছে। এই সময়ে বাজার থেকে হারিয়ে গেছে লাখো কোটি টাকার পুঁজি।
বাজার উন্নয়নের নামে নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি দেওয়ার বদলে আতঙ্ক বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ বাজার সংশ্লিষ্টদের। জরিমানা, বিও হিসাব ফ্রিজসহ নানা কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে লেনদেন কমেছে, অনেক বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন। বড় অঙ্কের জরিমানার ঘোষণা এলেও বাস্তবে সেগুলোর কার্যকর আদায় হয়নি। সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও একটি উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি।
কথার সংস্কার, বাস্তবের সংকট
২০২৫ সালে পুঁজিবাজার সংস্কার নিয়ে আলোচনা থাকলেও বাস্তবে তা সীমাবদ্ধ ছিল কয়েকটি বিধিমালায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বাজার অংশীজনদের মধ্যে দূরত্ব ছিল স্পষ্ট। গঠিত পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স থেকেও কার্যকর কোনো ফল আসেনি।
বছরের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল মার্জিন ঋণ ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা প্রণয়ন। তবে মার্জিন বিধিমালার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে এবং মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
আইপিও ও বিনিয়োগ কার্যত বন্ধ
২০২৫ সালে একটি আইপিও বা কিউআইও প্রস্তাবেরও অনুমোদন দিতে পারেনি বিএসইসি। নতুন আইপিও নীতিমালা সংস্কারের অজুহাতে প্রস্তাব গ্রহণও বন্ধ রয়েছে। ফলে দেড় বছর ধরে বাজারে নতুন পুঁজি প্রবেশ কার্যত বন্ধ।
বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ছিল স্থবিরতা। যেখানে ২০২৪ সালে ১১টি প্রতিষ্ঠান বন্ডের মাধ্যমে প্রায় ১৬ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা তুলেছিল, সেখানে ২০২৫ সালে অনুমোদন পেয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
সূচক ও লেনদেন তলানিতে
বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ডিএসইএক্স কমেছে প্রায় ৩৫১ পয়েন্ট। দৈনিক গড় লেনদেন কমে দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ কম। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ৬১ শতাংশের শেয়ারের দাম কমেছে।
বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারেজ সংকটে
সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, বছরে ৪২ হাজারের বেশি বিও হিসাব কমেছে। শেয়ারশূন্য বিও হিসাব বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে না পেরে অন্তত ১১৭টি ব্রোকারেজ অফিস বন্ধ হয়ে গেছে।
দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বাড়াচ্ছে তালিকাচ্যুতি
পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আটটি এনবিএফআই তালিকাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত বাজারে বড় ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম টাকার নিচে নেমে যাওয়ায় ইতিহাসের নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৫ সালে পুঁজিবাজারের সংকট কোনো একক সিদ্ধান্তের ফল নয়; এটি দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যে সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুতই ম্লান হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল পুঁজিবাজারে কোনো বড় ধাক্কা দিয়ে ভাঙেনি; বরং ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিঃশেষ করেছে-এমনটাই মত বাজার বিশ্লেষকদের।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!