
দিনের আলো ফুটতেই বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের ভিড় বাড়ে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার কম্বলপল্লীতে। এখানে শীতের কাপড় ৮ টাকা থেকে শুরু করে ৬৫ টাকায় পাওয়া যায়। আর কম্বল বিক্রি হয় ৭৫ টাকা থেকে ৬ হাজার ৪৫০ টাকায়। প্রায় ৪৫টি গ্রামের ৩৫ হাজার মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। সরকার স্বল্প সুদে ঋণ দিলে শিল্পটির বিকাশ আরও দ্রুত বাড়বে বলে আশা স্থানীয়দের।
১৯৯৮ সালে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই শিল্প ২০২২ সাল পর্যন্ত ছিল অফলাইনে ছিল। এরপর ২০২৩ সাল থেকে অনলাইনেও বিস্তার লাভ করে। যেটি রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন দেশজুড়ে বিস্তৃত।
শীতের শুরুতে গত বছরের তুলনায় এবার আরও প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুরো কম্বলপল্লী। উপজেলার শিমুলদাইড়, বরশিভাঙ্গা, সাতকয়া, শ্যামপুর, ছালাভরা, কুনকুনিয়া, গাড়াবেড়, চকপাড়া, পাইকরতলী, ঢেকুরিয়া, বরইতলা, মুসলিমপাড়াসহ প্রায় ৪৫টি গ্রামের ৩০-৩৫ হাজার মানুষের হাতে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে হাজারো কম্বল।
নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকার গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় থেকেই তৈরি হয় জোড়া কম্বল। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী ২৩০-৩২০ টাকা কেজি দরে রোল কাপড় কিনে প্রতি কেজিতে তৈরি হয় ৩-৫টি কম্বল। খুচরা বিক্রি ১২০-৮০০ টাকা, জোড়া কম্বল ১৫০-৪০০ টাকা।
শীতপ্রবণ ৪০টি জেলার পরিবারের ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে এসব কম্বল। বগুড়া থেকে কম্বল কিনতে এসে রাশেদুল হক বলেন, এখান থেকে প্রতি বছর কম্বল নিয়ে থাকি। কম্বলের মান অনেক ভালো। প্রায় ৪০০-৫০০ পিস কম্বল নেওয়া হয়। দামটাও অনেক কম।
দিনাজপুর জেলার সিফাত খান বলেন, কাজীপুরে কম দামে ভালো ভালো কম্বল পাওয়া যায়। ৮০০ বা ১০০০ পিস কম্বল দেখে শুনে নিয়ে যাব।
স্থানীয় মিজানুর রহমান বলেন, কম্বল পল্লীতে এখন বড় পরিসরে ব্যবসা হচ্ছে। দেশের প্রায় ৪০টি জেলা থেকে কম্বল ব্যবসায়ীরা আসেন। তাদের আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থে একটি ব্যাংক হলে খুব ভালো হয়।
শ্রমিকদের কাটা, সেলাই, মুড়ি- সব মিলিয়ে এখন পর্যাপ্ত কর্মচাঞ্চল্য দৃশ্যমান পুরো এলাকাজুড়ে। শীতের আগে জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ছয় মাস ব্যস্ততা থাকে এই শিল্পে।
কারিগর হাবিবুল মিয়া বলেন, আমরা প্রতি পিস এক-দেড় কিংবা দুই টাকা দরে কম্বল সেলাই করি। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ পিস কম্বল তৈরি করতে পারি।
সেলাই মেশিন চালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কাজীপুর নদী ভাঙনকবলিত এলাকা। এই কম্বলপল্লীতে অনেক দরিদ্র মানুষ কাজ করেন। এখান থেকে যে আয়টা হয়, সেটি দিয়েই আমাদের সংসার সচল থাকে।
সহী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. শরিফুল ইসলাম সোহেল বলেন, প্রায় ৩৪ বছর আগে আমাদের এই কম্বল শিল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সাথে সাথে এই ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। প্রায় ৪৫টি গ্রামের ৩৫ হাজার লোক এই শিল্পের সাথে জড়িত। সরকার যদি আমাদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করে, এই শিল্পের বিকাশ আরও দ্রুত ঘটানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, শীতের জামাকাপড় ৮ টাকা থেকে শুরু করে ৬৫ টাকা পর্যন্ত প্রতি পিস বিক্রি করা হয়। কম্বল প্রতি পিস প্রায় ৭৫ টাকা থেকে ৬ হাজার ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। গ্রামের মানুষ আমরা, এখানে শ্রমের মজুরি কম।
কাজীপুর কম্বল বাজারের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হালিম বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে কাজীপুরের শিমুলদাইড় বাজারে এই ব্যবসা শুরু হয়। ২০২২ সাল পর্যন্তও এই ব্যবসা ছিল অফলাইনভিত্তিক। তখন ক্রেতারা নগদ টাকা এনে কম্বল দেখে নিয়ে যেত, সেক্ষেত্রে একটা ঝুঁকি ছিল। এরপর ২০২৩ সাল থেকে ব্যবসার কার্যক্রম অনলাইনেও করা হচ্ছে। অফলাইনে শুধু রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ব্যবসা থাকলেও অনলাইনের ফলে এখন এই কার্যক্রম সারা দেশে চলছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন বলেন, কম্বলপল্লীতে নিরাপত্তা ও ব্যাংকিং সেবার অভাব আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা এসেছিলেন, তাদের সাথে কথা বলেছি। স্বল্প সুদে যদি ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়া যায় তাহলে এই শিল্পটি আরও উন্নত হবে। ব্যাংক দেওয়ার জন্য চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে আবেদন করেছি।

দিনের আলো ফুটতেই বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের ভিড় বাড়ে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার কম্বলপল্লীতে। এখানে শীতের কাপড় ৮ টাকা থেকে শুরু করে ৬৫ টাকায় পাওয়া যায়। আর কম্বল বিক্রি হয় ৭৫ টাকা থেকে ৬ হাজার ৪৫০ টাকায়। প্রায় ৪৫টি গ্রামের ৩৫ হাজার মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। সরকার স্বল্প সুদে ঋণ দিলে শিল্পটির বিকাশ আরও দ্রুত বাড়বে বলে আশা স্থানীয়দের।
১৯৯৮ সালে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই শিল্প ২০২২ সাল পর্যন্ত ছিল অফলাইনে ছিল। এরপর ২০২৩ সাল থেকে অনলাইনেও বিস্তার লাভ করে। যেটি রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন দেশজুড়ে বিস্তৃত।
শীতের শুরুতে গত বছরের তুলনায় এবার আরও প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুরো কম্বলপল্লী। উপজেলার শিমুলদাইড়, বরশিভাঙ্গা, সাতকয়া, শ্যামপুর, ছালাভরা, কুনকুনিয়া, গাড়াবেড়, চকপাড়া, পাইকরতলী, ঢেকুরিয়া, বরইতলা, মুসলিমপাড়াসহ প্রায় ৪৫টি গ্রামের ৩০-৩৫ হাজার মানুষের হাতে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে হাজারো কম্বল।
নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকার গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় থেকেই তৈরি হয় জোড়া কম্বল। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী ২৩০-৩২০ টাকা কেজি দরে রোল কাপড় কিনে প্রতি কেজিতে তৈরি হয় ৩-৫টি কম্বল। খুচরা বিক্রি ১২০-৮০০ টাকা, জোড়া কম্বল ১৫০-৪০০ টাকা।
শীতপ্রবণ ৪০টি জেলার পরিবারের ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে এসব কম্বল। বগুড়া থেকে কম্বল কিনতে এসে রাশেদুল হক বলেন, এখান থেকে প্রতি বছর কম্বল নিয়ে থাকি। কম্বলের মান অনেক ভালো। প্রায় ৪০০-৫০০ পিস কম্বল নেওয়া হয়। দামটাও অনেক কম।
দিনাজপুর জেলার সিফাত খান বলেন, কাজীপুরে কম দামে ভালো ভালো কম্বল পাওয়া যায়। ৮০০ বা ১০০০ পিস কম্বল দেখে শুনে নিয়ে যাব।
স্থানীয় মিজানুর রহমান বলেন, কম্বল পল্লীতে এখন বড় পরিসরে ব্যবসা হচ্ছে। দেশের প্রায় ৪০টি জেলা থেকে কম্বল ব্যবসায়ীরা আসেন। তাদের আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থে একটি ব্যাংক হলে খুব ভালো হয়।
শ্রমিকদের কাটা, সেলাই, মুড়ি- সব মিলিয়ে এখন পর্যাপ্ত কর্মচাঞ্চল্য দৃশ্যমান পুরো এলাকাজুড়ে। শীতের আগে জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ছয় মাস ব্যস্ততা থাকে এই শিল্পে।
কারিগর হাবিবুল মিয়া বলেন, আমরা প্রতি পিস এক-দেড় কিংবা দুই টাকা দরে কম্বল সেলাই করি। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ পিস কম্বল তৈরি করতে পারি।
সেলাই মেশিন চালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কাজীপুর নদী ভাঙনকবলিত এলাকা। এই কম্বলপল্লীতে অনেক দরিদ্র মানুষ কাজ করেন। এখান থেকে যে আয়টা হয়, সেটি দিয়েই আমাদের সংসার সচল থাকে।
সহী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. শরিফুল ইসলাম সোহেল বলেন, প্রায় ৩৪ বছর আগে আমাদের এই কম্বল শিল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সাথে সাথে এই ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। প্রায় ৪৫টি গ্রামের ৩৫ হাজার লোক এই শিল্পের সাথে জড়িত। সরকার যদি আমাদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করে, এই শিল্পের বিকাশ আরও দ্রুত ঘটানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, শীতের জামাকাপড় ৮ টাকা থেকে শুরু করে ৬৫ টাকা পর্যন্ত প্রতি পিস বিক্রি করা হয়। কম্বল প্রতি পিস প্রায় ৭৫ টাকা থেকে ৬ হাজার ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। গ্রামের মানুষ আমরা, এখানে শ্রমের মজুরি কম।
কাজীপুর কম্বল বাজারের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হালিম বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে কাজীপুরের শিমুলদাইড় বাজারে এই ব্যবসা শুরু হয়। ২০২২ সাল পর্যন্তও এই ব্যবসা ছিল অফলাইনভিত্তিক। তখন ক্রেতারা নগদ টাকা এনে কম্বল দেখে নিয়ে যেত, সেক্ষেত্রে একটা ঝুঁকি ছিল। এরপর ২০২৩ সাল থেকে ব্যবসার কার্যক্রম অনলাইনেও করা হচ্ছে। অফলাইনে শুধু রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ব্যবসা থাকলেও অনলাইনের ফলে এখন এই কার্যক্রম সারা দেশে চলছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন বলেন, কম্বলপল্লীতে নিরাপত্তা ও ব্যাংকিং সেবার অভাব আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা এসেছিলেন, তাদের সাথে কথা বলেছি। স্বল্প সুদে যদি ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়া যায় তাহলে এই শিল্পটি আরও উন্নত হবে। ব্যাংক দেওয়ার জন্য চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে আবেদন করেছি।

দিনের আলো ফুটতেই বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের ভিড় বাড়ে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার কম্বলপল্লীতে। এখানে শীতের কাপড় ৮ টাকা থেকে শুরু করে ৬৫ টাকায় পাওয়া যায়। আর কম্বল বিক্রি হয় ৭৫ টাকা থেকে ৬ হাজার ৪৫০ টাকায়। প্রায় ৪৫টি গ্রামের ৩৫ হাজার মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। সরকার স্বল্প সুদে ঋণ দিলে শিল্পটির বিকাশ আরও দ্রুত বাড়বে বলে আশা স্থানীয়দের।
১৯৯৮ সালে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই শিল্প ২০২২ সাল পর্যন্ত ছিল অফলাইনে ছিল। এরপর ২০২৩ সাল থেকে অনলাইনেও বিস্তার লাভ করে। যেটি রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন দেশজুড়ে বিস্তৃত।
শীতের শুরুতে গত বছরের তুলনায় এবার আরও প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুরো কম্বলপল্লী। উপজেলার শিমুলদাইড়, বরশিভাঙ্গা, সাতকয়া, শ্যামপুর, ছালাভরা, কুনকুনিয়া, গাড়াবেড়, চকপাড়া, পাইকরতলী, ঢেকুরিয়া, বরইতলা, মুসলিমপাড়াসহ প্রায় ৪৫টি গ্রামের ৩০-৩৫ হাজার মানুষের হাতে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে হাজারো কম্বল।
নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকার গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় থেকেই তৈরি হয় জোড়া কম্বল। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী ২৩০-৩২০ টাকা কেজি দরে রোল কাপড় কিনে প্রতি কেজিতে তৈরি হয় ৩-৫টি কম্বল। খুচরা বিক্রি ১২০-৮০০ টাকা, জোড়া কম্বল ১৫০-৪০০ টাকা।
শীতপ্রবণ ৪০টি জেলার পরিবারের ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে এসব কম্বল। বগুড়া থেকে কম্বল কিনতে এসে রাশেদুল হক বলেন, এখান থেকে প্রতি বছর কম্বল নিয়ে থাকি। কম্বলের মান অনেক ভালো। প্রায় ৪০০-৫০০ পিস কম্বল নেওয়া হয়। দামটাও অনেক কম।
দিনাজপুর জেলার সিফাত খান বলেন, কাজীপুরে কম দামে ভালো ভালো কম্বল পাওয়া যায়। ৮০০ বা ১০০০ পিস কম্বল দেখে শুনে নিয়ে যাব।
স্থানীয় মিজানুর রহমান বলেন, কম্বল পল্লীতে এখন বড় পরিসরে ব্যবসা হচ্ছে। দেশের প্রায় ৪০টি জেলা থেকে কম্বল ব্যবসায়ীরা আসেন। তাদের আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থে একটি ব্যাংক হলে খুব ভালো হয়।
শ্রমিকদের কাটা, সেলাই, মুড়ি- সব মিলিয়ে এখন পর্যাপ্ত কর্মচাঞ্চল্য দৃশ্যমান পুরো এলাকাজুড়ে। শীতের আগে জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ছয় মাস ব্যস্ততা থাকে এই শিল্পে।
কারিগর হাবিবুল মিয়া বলেন, আমরা প্রতি পিস এক-দেড় কিংবা দুই টাকা দরে কম্বল সেলাই করি। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ পিস কম্বল তৈরি করতে পারি।
সেলাই মেশিন চালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কাজীপুর নদী ভাঙনকবলিত এলাকা। এই কম্বলপল্লীতে অনেক দরিদ্র মানুষ কাজ করেন। এখান থেকে যে আয়টা হয়, সেটি দিয়েই আমাদের সংসার সচল থাকে।
সহী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. শরিফুল ইসলাম সোহেল বলেন, প্রায় ৩৪ বছর আগে আমাদের এই কম্বল শিল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সাথে সাথে এই ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। প্রায় ৪৫টি গ্রামের ৩৫ হাজার লোক এই শিল্পের সাথে জড়িত। সরকার যদি আমাদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করে, এই শিল্পের বিকাশ আরও দ্রুত ঘটানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, শীতের জামাকাপড় ৮ টাকা থেকে শুরু করে ৬৫ টাকা পর্যন্ত প্রতি পিস বিক্রি করা হয়। কম্বল প্রতি পিস প্রায় ৭৫ টাকা থেকে ৬ হাজার ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। গ্রামের মানুষ আমরা, এখানে শ্রমের মজুরি কম।
কাজীপুর কম্বল বাজারের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হালিম বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে কাজীপুরের শিমুলদাইড় বাজারে এই ব্যবসা শুরু হয়। ২০২২ সাল পর্যন্তও এই ব্যবসা ছিল অফলাইনভিত্তিক। তখন ক্রেতারা নগদ টাকা এনে কম্বল দেখে নিয়ে যেত, সেক্ষেত্রে একটা ঝুঁকি ছিল। এরপর ২০২৩ সাল থেকে ব্যবসার কার্যক্রম অনলাইনেও করা হচ্ছে। অফলাইনে শুধু রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ব্যবসা থাকলেও অনলাইনের ফলে এখন এই কার্যক্রম সারা দেশে চলছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন বলেন, কম্বলপল্লীতে নিরাপত্তা ও ব্যাংকিং সেবার অভাব আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা এসেছিলেন, তাদের সাথে কথা বলেছি। স্বল্প সুদে যদি ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়া যায় তাহলে এই শিল্পটি আরও উন্নত হবে। ব্যাংক দেওয়ার জন্য চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে আবেদন করেছি।

দিনের আলো ফুটতেই বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের ভিড় বাড়ে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার কম্বলপল্লীতে। এখানে শীতের কাপড় ৮ টাকা থেকে শুরু করে ৬৫ টাকায় পাওয়া যায়। আর কম্বল বিক্রি হয় ৭৫ টাকা থেকে ৬ হাজার ৪৫০ টাকায়। প্রায় ৪৫টি গ্রামের ৩৫ হাজার মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। সরকার স্বল্প সুদে ঋণ দিলে শিল্পটির বিকাশ আরও দ্রুত বাড়বে বলে আশা স্থানীয়দের।
১৯৯৮ সালে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই শিল্প ২০২২ সাল পর্যন্ত ছিল অফলাইনে ছিল। এরপর ২০২৩ সাল থেকে অনলাইনেও বিস্তার লাভ করে। যেটি রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন দেশজুড়ে বিস্তৃত।
শীতের শুরুতে গত বছরের তুলনায় এবার আরও প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুরো কম্বলপল্লী। উপজেলার শিমুলদাইড়, বরশিভাঙ্গা, সাতকয়া, শ্যামপুর, ছালাভরা, কুনকুনিয়া, গাড়াবেড়, চকপাড়া, পাইকরতলী, ঢেকুরিয়া, বরইতলা, মুসলিমপাড়াসহ প্রায় ৪৫টি গ্রামের ৩০-৩৫ হাজার মানুষের হাতে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে হাজারো কম্বল।
নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকার গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় থেকেই তৈরি হয় জোড়া কম্বল। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী ২৩০-৩২০ টাকা কেজি দরে রোল কাপড় কিনে প্রতি কেজিতে তৈরি হয় ৩-৫টি কম্বল। খুচরা বিক্রি ১২০-৮০০ টাকা, জোড়া কম্বল ১৫০-৪০০ টাকা।
শীতপ্রবণ ৪০টি জেলার পরিবারের ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে এসব কম্বল। বগুড়া থেকে কম্বল কিনতে এসে রাশেদুল হক বলেন, এখান থেকে প্রতি বছর কম্বল নিয়ে থাকি। কম্বলের মান অনেক ভালো। প্রায় ৪০০-৫০০ পিস কম্বল নেওয়া হয়। দামটাও অনেক কম।
দিনাজপুর জেলার সিফাত খান বলেন, কাজীপুরে কম দামে ভালো ভালো কম্বল পাওয়া যায়। ৮০০ বা ১০০০ পিস কম্বল দেখে শুনে নিয়ে যাব।
স্থানীয় মিজানুর রহমান বলেন, কম্বল পল্লীতে এখন বড় পরিসরে ব্যবসা হচ্ছে। দেশের প্রায় ৪০টি জেলা থেকে কম্বল ব্যবসায়ীরা আসেন। তাদের আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থে একটি ব্যাংক হলে খুব ভালো হয়।
শ্রমিকদের কাটা, সেলাই, মুড়ি- সব মিলিয়ে এখন পর্যাপ্ত কর্মচাঞ্চল্য দৃশ্যমান পুরো এলাকাজুড়ে। শীতের আগে জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ছয় মাস ব্যস্ততা থাকে এই শিল্পে।
কারিগর হাবিবুল মিয়া বলেন, আমরা প্রতি পিস এক-দেড় কিংবা দুই টাকা দরে কম্বল সেলাই করি। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ পিস কম্বল তৈরি করতে পারি।
সেলাই মেশিন চালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কাজীপুর নদী ভাঙনকবলিত এলাকা। এই কম্বলপল্লীতে অনেক দরিদ্র মানুষ কাজ করেন। এখান থেকে যে আয়টা হয়, সেটি দিয়েই আমাদের সংসার সচল থাকে।
সহী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. শরিফুল ইসলাম সোহেল বলেন, প্রায় ৩৪ বছর আগে আমাদের এই কম্বল শিল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সাথে সাথে এই ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। প্রায় ৪৫টি গ্রামের ৩৫ হাজার লোক এই শিল্পের সাথে জড়িত। সরকার যদি আমাদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করে, এই শিল্পের বিকাশ আরও দ্রুত ঘটানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, শীতের জামাকাপড় ৮ টাকা থেকে শুরু করে ৬৫ টাকা পর্যন্ত প্রতি পিস বিক্রি করা হয়। কম্বল প্রতি পিস প্রায় ৭৫ টাকা থেকে ৬ হাজার ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। গ্রামের মানুষ আমরা, এখানে শ্রমের মজুরি কম।
কাজীপুর কম্বল বাজারের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হালিম বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে কাজীপুরের শিমুলদাইড় বাজারে এই ব্যবসা শুরু হয়। ২০২২ সাল পর্যন্তও এই ব্যবসা ছিল অফলাইনভিত্তিক। তখন ক্রেতারা নগদ টাকা এনে কম্বল দেখে নিয়ে যেত, সেক্ষেত্রে একটা ঝুঁকি ছিল। এরপর ২০২৩ সাল থেকে ব্যবসার কার্যক্রম অনলাইনেও করা হচ্ছে। অফলাইনে শুধু রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ব্যবসা থাকলেও অনলাইনের ফলে এখন এই কার্যক্রম সারা দেশে চলছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন বলেন, কম্বলপল্লীতে নিরাপত্তা ও ব্যাংকিং সেবার অভাব আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা এসেছিলেন, তাদের সাথে কথা বলেছি। স্বল্প সুদে যদি ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়া যায় তাহলে এই শিল্পটি আরও উন্নত হবে। ব্যাংক দেওয়ার জন্য চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে আবেদন করেছি।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!