-1763469152613-854926579.jpg&w=1920&q=75)
জন্মের পর নবজাতকের স্বাস্থ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। তাই তাদের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। নতুন অভিভাবকদের নবজাতকের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা শিশুর যত্ন নিতে এবং সুস্থতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হন। নতুন পিতামাতাদের জন্য এটি প্রায়শই ক্লান্তিকর অভিজ্ঞতা হতে পারে। নবজাতকের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক।
নবজাতকের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে রয়েছে জন্ডিস, সর্দি-জ্বর, কাশি, শূল ইত্যাদি। অধিকাংশ সমস্যা গুরুতর নয়, তবে এগুলোর জন্য পিতামাতার বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। একজন অভিভাবক হিসেবে আমাদের সচেতন থাকা উচিত শিশুর সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তা সমাধানের চেষ্টা করা। নবজাতক কাঁদলে তা সাধারণত তাদের প্রয়োজন বা অস্বস্তি প্রকাশ করে। সুতরাং শিশুর চাহিদা বোঝা এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা উচিত, প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
নবজাতকের কিছু সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা নিম্নরূপ:
কোলিক
নবজাতক কোলিকের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কান্নাকাটি করতে পারে। এটি সাধারণত গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্সের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীর দিকে ওঠে। যদি শিশুটি প্রথম তিন মাসে অবিরাম কান্না করে, কোলিক সন্দেহ করা যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সর্দি ও ফ্লু
শিশুদের ইমিউন সিস্টেম খুবই সংবেদনশীল। সর্দি ও ফ্লুর লক্ষণ হলো নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, হাঁচি ইত্যাদি। এই উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ সাধারণ ঠান্ডা ও ফ্লু কখনও কখনও নিউমোনিয়ায় পরিণত হতে পারে।
কানের সংক্রমণ
কানের সংক্রমণ শিশুদের মধ্যে সাধারণ এবং এটি কানের মধ্যে থাকা জীবাণু বা তরল দ্বারা সৃষ্টি হয়, যা শিশুকে অস্বস্তিকর করে তোলে।
কোষ্ঠকাঠিন্য
১ বছরের কম শিশুর মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। এটি সাধারণত খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে হয়। নতুন কঠিন খাবারের ফলে মলত্যাগ অনিয়মিত হতে পারে। ঘরোয়া প্রতিকার বা খাদ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি সমাধান করা যায়। যদি ডায়াপারে রক্ত থাকে বা সমস্যা স্থায়ী হয়, ডাক্তার দেখানো জরুরি।
ডায়রিয়া
ডায়রিয়া হলো ঘন ঘন জলীয় মলত্যাগ, যা সংক্রমণ, ওষুধ বা খাদ্য অ্যালার্জির কারণে হতে পারে। এটি ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রক্তযুক্ত মল দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।
ত্বকের অবস্থা
শিশুর জন্মের পর ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। অধিকাংশই অল্প সময়ের জন্য থাকে। কিছু জন্মচিহ্ন জন্মের সময় দেখা নাও দিতে পারে, তবে সারাজীবনের জন্য থাকতে পারে।
জন্ডিস
অধিকাংশ শিশু জন্ডিসে আক্রান্ত হয়। এতে ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যায়। কিছু শিশু স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ হয়ে যায়; তবে বেশি জন্ডিস বা পানিশূন্যতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন।
জ্বর
নবজাতকের সংক্রমণের প্রথম এবং প্রাথমিক লক্ষণ হলো জ্বর। আচরণে পরিবর্তন যেমন অতিরিক্ত কান্না বা বেশি ঘুমানোও অসুস্থতার ইঙ্গিত হতে পারে। এক মাসের কম বয়সী শিশুতে জ্বর বা সংক্রমণ হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।
খাওয়ানো
প্রথম কয়েক দিনে নবজাতককে ১.৫–৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর খাওয়ানো উচিত। তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে খাওয়ানোর একটি প্যাটার্ন স্থাপন করা জরুরি। শিশুর মলপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তারা পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে। জন্মের পর প্রথম কয়েক দিনে কিছু ওজন কমে যায়, যা ১০–১৪ দিনের মধ্যে জন্মের ওজনে ফিরে আসে। খাওয়ানোর সময় বা পরে শিশুর কিছু থুতু ফেলা স্বাভাবিক, তবে নিয়মিত বা জোরদার বমি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
নতুন অভিভাবকদের জন্য টিপস
নবজাতককে প্রথম ছয় মাস একচেটিয়া বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। শিশুকে পর্যাপ্ত জামাকাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, তবে অতিরিক্ত কাপড় পরানো যাবে না। খাওয়ানোর তিন-চার দিনের মধ্যে জলযুক্ত মল স্বাভাবিক। সঠিক পরিমাণে প্রস্রাব এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। নাভির কর্ড পড়ে যাওয়া পর্যন্ত স্নান এড়িয়ে চলুন। নির্ধারিত টিকা সম্পূর্ণ করুন। শিশুকে হ্যান্ডলিং করার আগে হাত ধুয়ে বা জীবাণুমুক্ত করুন। মাথা ও ঘাড়ের সমর্থন দিন এবং ঝাঁকুনি এড়িয়ে চলুন। খাওয়ানোর পর শিশুকে ফুঁকানো এবং পিঠে আলতো চাপ দেওয়া জরুরি। নবজাতক সাধারণত দুই থেকে চার ঘণ্টা ঘুমায়, ফলে রাতে মা ঘুম ভেঙে খাওয়াতে হবে। ডাক্তারদের ফলো-আপ ভিজিট অপরিহার্য। জন্ডিস, সংক্রমণ বা ত্বকের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নাভি লাল, দুর্গন্ধযুক্ত বা রক্তাক্ত হলে চিকিৎসা প্রয়োজন। জন্মের প্রথম দিনগুলো শিশুর সাথে কোমল ব্যবহার ও বন্ধনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর জন্ম নতুন অভিভাবকদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ সময়। এটি শেখার, আনন্দের এবং বিশেষ যত্ন ও পারিবারিক সহায়তার প্রয়োজনের সময়। জন্মের পর প্রথম ২৮ দিনে নবজাতকের অবস্থার প্রতি সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা ও শিশুর সঠিক যত্ন গ্রহণ অপরিহার্য এবং এটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
-1763469152613-854926579.jpg&w=1920&q=75)
জন্মের পর নবজাতকের স্বাস্থ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। তাই তাদের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। নতুন অভিভাবকদের নবজাতকের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা শিশুর যত্ন নিতে এবং সুস্থতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হন। নতুন পিতামাতাদের জন্য এটি প্রায়শই ক্লান্তিকর অভিজ্ঞতা হতে পারে। নবজাতকের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক।
নবজাতকের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে রয়েছে জন্ডিস, সর্দি-জ্বর, কাশি, শূল ইত্যাদি। অধিকাংশ সমস্যা গুরুতর নয়, তবে এগুলোর জন্য পিতামাতার বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। একজন অভিভাবক হিসেবে আমাদের সচেতন থাকা উচিত শিশুর সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তা সমাধানের চেষ্টা করা। নবজাতক কাঁদলে তা সাধারণত তাদের প্রয়োজন বা অস্বস্তি প্রকাশ করে। সুতরাং শিশুর চাহিদা বোঝা এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা উচিত, প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
নবজাতকের কিছু সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা নিম্নরূপ:
কোলিক
নবজাতক কোলিকের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কান্নাকাটি করতে পারে। এটি সাধারণত গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্সের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীর দিকে ওঠে। যদি শিশুটি প্রথম তিন মাসে অবিরাম কান্না করে, কোলিক সন্দেহ করা যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সর্দি ও ফ্লু
শিশুদের ইমিউন সিস্টেম খুবই সংবেদনশীল। সর্দি ও ফ্লুর লক্ষণ হলো নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, হাঁচি ইত্যাদি। এই উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ সাধারণ ঠান্ডা ও ফ্লু কখনও কখনও নিউমোনিয়ায় পরিণত হতে পারে।
কানের সংক্রমণ
কানের সংক্রমণ শিশুদের মধ্যে সাধারণ এবং এটি কানের মধ্যে থাকা জীবাণু বা তরল দ্বারা সৃষ্টি হয়, যা শিশুকে অস্বস্তিকর করে তোলে।
কোষ্ঠকাঠিন্য
১ বছরের কম শিশুর মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। এটি সাধারণত খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে হয়। নতুন কঠিন খাবারের ফলে মলত্যাগ অনিয়মিত হতে পারে। ঘরোয়া প্রতিকার বা খাদ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি সমাধান করা যায়। যদি ডায়াপারে রক্ত থাকে বা সমস্যা স্থায়ী হয়, ডাক্তার দেখানো জরুরি।
ডায়রিয়া
ডায়রিয়া হলো ঘন ঘন জলীয় মলত্যাগ, যা সংক্রমণ, ওষুধ বা খাদ্য অ্যালার্জির কারণে হতে পারে। এটি ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রক্তযুক্ত মল দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।
ত্বকের অবস্থা
শিশুর জন্মের পর ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। অধিকাংশই অল্প সময়ের জন্য থাকে। কিছু জন্মচিহ্ন জন্মের সময় দেখা নাও দিতে পারে, তবে সারাজীবনের জন্য থাকতে পারে।
জন্ডিস
অধিকাংশ শিশু জন্ডিসে আক্রান্ত হয়। এতে ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যায়। কিছু শিশু স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ হয়ে যায়; তবে বেশি জন্ডিস বা পানিশূন্যতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন।
জ্বর
নবজাতকের সংক্রমণের প্রথম এবং প্রাথমিক লক্ষণ হলো জ্বর। আচরণে পরিবর্তন যেমন অতিরিক্ত কান্না বা বেশি ঘুমানোও অসুস্থতার ইঙ্গিত হতে পারে। এক মাসের কম বয়সী শিশুতে জ্বর বা সংক্রমণ হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।
খাওয়ানো
প্রথম কয়েক দিনে নবজাতককে ১.৫–৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর খাওয়ানো উচিত। তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে খাওয়ানোর একটি প্যাটার্ন স্থাপন করা জরুরি। শিশুর মলপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তারা পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে। জন্মের পর প্রথম কয়েক দিনে কিছু ওজন কমে যায়, যা ১০–১৪ দিনের মধ্যে জন্মের ওজনে ফিরে আসে। খাওয়ানোর সময় বা পরে শিশুর কিছু থুতু ফেলা স্বাভাবিক, তবে নিয়মিত বা জোরদার বমি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
নতুন অভিভাবকদের জন্য টিপস
নবজাতককে প্রথম ছয় মাস একচেটিয়া বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। শিশুকে পর্যাপ্ত জামাকাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, তবে অতিরিক্ত কাপড় পরানো যাবে না। খাওয়ানোর তিন-চার দিনের মধ্যে জলযুক্ত মল স্বাভাবিক। সঠিক পরিমাণে প্রস্রাব এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। নাভির কর্ড পড়ে যাওয়া পর্যন্ত স্নান এড়িয়ে চলুন। নির্ধারিত টিকা সম্পূর্ণ করুন। শিশুকে হ্যান্ডলিং করার আগে হাত ধুয়ে বা জীবাণুমুক্ত করুন। মাথা ও ঘাড়ের সমর্থন দিন এবং ঝাঁকুনি এড়িয়ে চলুন। খাওয়ানোর পর শিশুকে ফুঁকানো এবং পিঠে আলতো চাপ দেওয়া জরুরি। নবজাতক সাধারণত দুই থেকে চার ঘণ্টা ঘুমায়, ফলে রাতে মা ঘুম ভেঙে খাওয়াতে হবে। ডাক্তারদের ফলো-আপ ভিজিট অপরিহার্য। জন্ডিস, সংক্রমণ বা ত্বকের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নাভি লাল, দুর্গন্ধযুক্ত বা রক্তাক্ত হলে চিকিৎসা প্রয়োজন। জন্মের প্রথম দিনগুলো শিশুর সাথে কোমল ব্যবহার ও বন্ধনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর জন্ম নতুন অভিভাবকদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ সময়। এটি শেখার, আনন্দের এবং বিশেষ যত্ন ও পারিবারিক সহায়তার প্রয়োজনের সময়। জন্মের পর প্রথম ২৮ দিনে নবজাতকের অবস্থার প্রতি সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা ও শিশুর সঠিক যত্ন গ্রহণ অপরিহার্য এবং এটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
-1763469152613-854926579.jpg&w=1920&q=75)
জন্মের পর নবজাতকের স্বাস্থ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। তাই তাদের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। নতুন অভিভাবকদের নবজাতকের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা শিশুর যত্ন নিতে এবং সুস্থতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হন। নতুন পিতামাতাদের জন্য এটি প্রায়শই ক্লান্তিকর অভিজ্ঞতা হতে পারে। নবজাতকের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক।
নবজাতকের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে রয়েছে জন্ডিস, সর্দি-জ্বর, কাশি, শূল ইত্যাদি। অধিকাংশ সমস্যা গুরুতর নয়, তবে এগুলোর জন্য পিতামাতার বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। একজন অভিভাবক হিসেবে আমাদের সচেতন থাকা উচিত শিশুর সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তা সমাধানের চেষ্টা করা। নবজাতক কাঁদলে তা সাধারণত তাদের প্রয়োজন বা অস্বস্তি প্রকাশ করে। সুতরাং শিশুর চাহিদা বোঝা এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা উচিত, প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
নবজাতকের কিছু সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা নিম্নরূপ:
কোলিক
নবজাতক কোলিকের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কান্নাকাটি করতে পারে। এটি সাধারণত গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্সের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীর দিকে ওঠে। যদি শিশুটি প্রথম তিন মাসে অবিরাম কান্না করে, কোলিক সন্দেহ করা যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সর্দি ও ফ্লু
শিশুদের ইমিউন সিস্টেম খুবই সংবেদনশীল। সর্দি ও ফ্লুর লক্ষণ হলো নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, হাঁচি ইত্যাদি। এই উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ সাধারণ ঠান্ডা ও ফ্লু কখনও কখনও নিউমোনিয়ায় পরিণত হতে পারে।
কানের সংক্রমণ
কানের সংক্রমণ শিশুদের মধ্যে সাধারণ এবং এটি কানের মধ্যে থাকা জীবাণু বা তরল দ্বারা সৃষ্টি হয়, যা শিশুকে অস্বস্তিকর করে তোলে।
কোষ্ঠকাঠিন্য
১ বছরের কম শিশুর মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। এটি সাধারণত খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে হয়। নতুন কঠিন খাবারের ফলে মলত্যাগ অনিয়মিত হতে পারে। ঘরোয়া প্রতিকার বা খাদ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি সমাধান করা যায়। যদি ডায়াপারে রক্ত থাকে বা সমস্যা স্থায়ী হয়, ডাক্তার দেখানো জরুরি।
ডায়রিয়া
ডায়রিয়া হলো ঘন ঘন জলীয় মলত্যাগ, যা সংক্রমণ, ওষুধ বা খাদ্য অ্যালার্জির কারণে হতে পারে। এটি ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রক্তযুক্ত মল দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।
ত্বকের অবস্থা
শিশুর জন্মের পর ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। অধিকাংশই অল্প সময়ের জন্য থাকে। কিছু জন্মচিহ্ন জন্মের সময় দেখা নাও দিতে পারে, তবে সারাজীবনের জন্য থাকতে পারে।
জন্ডিস
অধিকাংশ শিশু জন্ডিসে আক্রান্ত হয়। এতে ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যায়। কিছু শিশু স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ হয়ে যায়; তবে বেশি জন্ডিস বা পানিশূন্যতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন।
জ্বর
নবজাতকের সংক্রমণের প্রথম এবং প্রাথমিক লক্ষণ হলো জ্বর। আচরণে পরিবর্তন যেমন অতিরিক্ত কান্না বা বেশি ঘুমানোও অসুস্থতার ইঙ্গিত হতে পারে। এক মাসের কম বয়সী শিশুতে জ্বর বা সংক্রমণ হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।
খাওয়ানো
প্রথম কয়েক দিনে নবজাতককে ১.৫–৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর খাওয়ানো উচিত। তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে খাওয়ানোর একটি প্যাটার্ন স্থাপন করা জরুরি। শিশুর মলপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তারা পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে। জন্মের পর প্রথম কয়েক দিনে কিছু ওজন কমে যায়, যা ১০–১৪ দিনের মধ্যে জন্মের ওজনে ফিরে আসে। খাওয়ানোর সময় বা পরে শিশুর কিছু থুতু ফেলা স্বাভাবিক, তবে নিয়মিত বা জোরদার বমি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
নতুন অভিভাবকদের জন্য টিপস
নবজাতককে প্রথম ছয় মাস একচেটিয়া বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। শিশুকে পর্যাপ্ত জামাকাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, তবে অতিরিক্ত কাপড় পরানো যাবে না। খাওয়ানোর তিন-চার দিনের মধ্যে জলযুক্ত মল স্বাভাবিক। সঠিক পরিমাণে প্রস্রাব এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। নাভির কর্ড পড়ে যাওয়া পর্যন্ত স্নান এড়িয়ে চলুন। নির্ধারিত টিকা সম্পূর্ণ করুন। শিশুকে হ্যান্ডলিং করার আগে হাত ধুয়ে বা জীবাণুমুক্ত করুন। মাথা ও ঘাড়ের সমর্থন দিন এবং ঝাঁকুনি এড়িয়ে চলুন। খাওয়ানোর পর শিশুকে ফুঁকানো এবং পিঠে আলতো চাপ দেওয়া জরুরি। নবজাতক সাধারণত দুই থেকে চার ঘণ্টা ঘুমায়, ফলে রাতে মা ঘুম ভেঙে খাওয়াতে হবে। ডাক্তারদের ফলো-আপ ভিজিট অপরিহার্য। জন্ডিস, সংক্রমণ বা ত্বকের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নাভি লাল, দুর্গন্ধযুক্ত বা রক্তাক্ত হলে চিকিৎসা প্রয়োজন। জন্মের প্রথম দিনগুলো শিশুর সাথে কোমল ব্যবহার ও বন্ধনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর জন্ম নতুন অভিভাবকদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ সময়। এটি শেখার, আনন্দের এবং বিশেষ যত্ন ও পারিবারিক সহায়তার প্রয়োজনের সময়। জন্মের পর প্রথম ২৮ দিনে নবজাতকের অবস্থার প্রতি সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা ও শিশুর সঠিক যত্ন গ্রহণ অপরিহার্য এবং এটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
-1763469152613-854926579.jpg&w=1920&q=75)
জন্মের পর নবজাতকের স্বাস্থ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। তাই তাদের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। নতুন অভিভাবকদের নবজাতকের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা শিশুর যত্ন নিতে এবং সুস্থতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হন। নতুন পিতামাতাদের জন্য এটি প্রায়শই ক্লান্তিকর অভিজ্ঞতা হতে পারে। নবজাতকের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক।
নবজাতকের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে রয়েছে জন্ডিস, সর্দি-জ্বর, কাশি, শূল ইত্যাদি। অধিকাংশ সমস্যা গুরুতর নয়, তবে এগুলোর জন্য পিতামাতার বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। একজন অভিভাবক হিসেবে আমাদের সচেতন থাকা উচিত শিশুর সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তা সমাধানের চেষ্টা করা। নবজাতক কাঁদলে তা সাধারণত তাদের প্রয়োজন বা অস্বস্তি প্রকাশ করে। সুতরাং শিশুর চাহিদা বোঝা এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা উচিত, প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
নবজাতকের কিছু সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা নিম্নরূপ:
কোলিক
নবজাতক কোলিকের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কান্নাকাটি করতে পারে। এটি সাধারণত গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্সের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীর দিকে ওঠে। যদি শিশুটি প্রথম তিন মাসে অবিরাম কান্না করে, কোলিক সন্দেহ করা যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সর্দি ও ফ্লু
শিশুদের ইমিউন সিস্টেম খুবই সংবেদনশীল। সর্দি ও ফ্লুর লক্ষণ হলো নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, হাঁচি ইত্যাদি। এই উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ সাধারণ ঠান্ডা ও ফ্লু কখনও কখনও নিউমোনিয়ায় পরিণত হতে পারে।
কানের সংক্রমণ
কানের সংক্রমণ শিশুদের মধ্যে সাধারণ এবং এটি কানের মধ্যে থাকা জীবাণু বা তরল দ্বারা সৃষ্টি হয়, যা শিশুকে অস্বস্তিকর করে তোলে।
কোষ্ঠকাঠিন্য
১ বছরের কম শিশুর মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। এটি সাধারণত খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে হয়। নতুন কঠিন খাবারের ফলে মলত্যাগ অনিয়মিত হতে পারে। ঘরোয়া প্রতিকার বা খাদ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি সমাধান করা যায়। যদি ডায়াপারে রক্ত থাকে বা সমস্যা স্থায়ী হয়, ডাক্তার দেখানো জরুরি।
ডায়রিয়া
ডায়রিয়া হলো ঘন ঘন জলীয় মলত্যাগ, যা সংক্রমণ, ওষুধ বা খাদ্য অ্যালার্জির কারণে হতে পারে। এটি ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রক্তযুক্ত মল দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।
ত্বকের অবস্থা
শিশুর জন্মের পর ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। অধিকাংশই অল্প সময়ের জন্য থাকে। কিছু জন্মচিহ্ন জন্মের সময় দেখা নাও দিতে পারে, তবে সারাজীবনের জন্য থাকতে পারে।
জন্ডিস
অধিকাংশ শিশু জন্ডিসে আক্রান্ত হয়। এতে ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যায়। কিছু শিশু স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ হয়ে যায়; তবে বেশি জন্ডিস বা পানিশূন্যতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন।
জ্বর
নবজাতকের সংক্রমণের প্রথম এবং প্রাথমিক লক্ষণ হলো জ্বর। আচরণে পরিবর্তন যেমন অতিরিক্ত কান্না বা বেশি ঘুমানোও অসুস্থতার ইঙ্গিত হতে পারে। এক মাসের কম বয়সী শিশুতে জ্বর বা সংক্রমণ হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।
খাওয়ানো
প্রথম কয়েক দিনে নবজাতককে ১.৫–৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর খাওয়ানো উচিত। তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে খাওয়ানোর একটি প্যাটার্ন স্থাপন করা জরুরি। শিশুর মলপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তারা পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে। জন্মের পর প্রথম কয়েক দিনে কিছু ওজন কমে যায়, যা ১০–১৪ দিনের মধ্যে জন্মের ওজনে ফিরে আসে। খাওয়ানোর সময় বা পরে শিশুর কিছু থুতু ফেলা স্বাভাবিক, তবে নিয়মিত বা জোরদার বমি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
নতুন অভিভাবকদের জন্য টিপস
নবজাতককে প্রথম ছয় মাস একচেটিয়া বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। শিশুকে পর্যাপ্ত জামাকাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, তবে অতিরিক্ত কাপড় পরানো যাবে না। খাওয়ানোর তিন-চার দিনের মধ্যে জলযুক্ত মল স্বাভাবিক। সঠিক পরিমাণে প্রস্রাব এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। নাভির কর্ড পড়ে যাওয়া পর্যন্ত স্নান এড়িয়ে চলুন। নির্ধারিত টিকা সম্পূর্ণ করুন। শিশুকে হ্যান্ডলিং করার আগে হাত ধুয়ে বা জীবাণুমুক্ত করুন। মাথা ও ঘাড়ের সমর্থন দিন এবং ঝাঁকুনি এড়িয়ে চলুন। খাওয়ানোর পর শিশুকে ফুঁকানো এবং পিঠে আলতো চাপ দেওয়া জরুরি। নবজাতক সাধারণত দুই থেকে চার ঘণ্টা ঘুমায়, ফলে রাতে মা ঘুম ভেঙে খাওয়াতে হবে। ডাক্তারদের ফলো-আপ ভিজিট অপরিহার্য। জন্ডিস, সংক্রমণ বা ত্বকের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নাভি লাল, দুর্গন্ধযুক্ত বা রক্তাক্ত হলে চিকিৎসা প্রয়োজন। জন্মের প্রথম দিনগুলো শিশুর সাথে কোমল ব্যবহার ও বন্ধনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর জন্ম নতুন অভিভাবকদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ সময়। এটি শেখার, আনন্দের এবং বিশেষ যত্ন ও পারিবারিক সহায়তার প্রয়োজনের সময়। জন্মের পর প্রথম ২৮ দিনে নবজাতকের অবস্থার প্রতি সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা ও শিশুর সঠিক যত্ন গ্রহণ অপরিহার্য এবং এটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!