
সার্ভিক্যাল স্পনডাইলোসিস, যা সাধারণভাবে ঘাড়ের বাত বা ঘাড়ের জয়েন্টের ক্ষয়জনিত রোগ হিসেবে পরিচিত, মূলত বয়সজনিত একটি সমস্যা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাড়ের হাড়, ডিস্ক ও আশপাশের টিস্যুতে অবক্ষয়জনিত পরিবর্তন ঘটে। ফলে এ রোগের প্রকোপ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। রোগটির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। প্রধানত বয়স বৃদ্ধির ফলে হাড় ও ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কে স্বাভাবিক ক্ষয় দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে একই ভঙ্গিতে ঘাড় বাঁকিয়ে কাজ করা, যেমন- কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার ডিস্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং এর গঠনগত পরিবর্তন ঘটায়। ফলে সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এছাড়া ডিস্কের আর্দ্রতা কমে গেলে কশেরুকার মধ্যে ঘর্ষণ বাড়ে। ফলে অস্বাভাবিক হাড়ের বৃদ্ধি বা ‘স্পার’ তৈরি হয়। এটি এ রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও অল্প বয়সে এই রোগ দেখা দিতে পারে। যেসব পেশায় দীর্ঘক্ষণ একইভাবে ঘাড় রাখতে হয় বা বারবার একই ধরনের নড়াচড়া করতে হয়, তাদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি। পূর্বে ঘাড়ে আঘাত পাওয়া থাকলেও ভবিষ্যতে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত শক্ত বা অতিরিক্ত নরম বালিশ ব্যবহার করাও ঝুঁকি বাড়ায়। কিছু সিস্টেমিক রোগ, যেমন- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা অটোইমিউন আর্থ্রাইটিস, থেকেও সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিস হতে পারে।
এ রোগের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঘাড়ে ব্যথা ও শক্ত হয়ে যাওয়া, পিঠের মাংসপেশিতে ব্যথা, ঘাড়ের ব্যথা হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া, হাত অবশ হয়ে যাওয়া বা ঝিনঝিন অনুভূতি (সার্ভিক্যাল রেডিকুলোপ্যাথি), মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং বমিভাব।
রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রথমে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস নেওয়া হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে (সার্ভিকাল স্পাইন), এমআরআই, সিটি স্ক্যান বা ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি (EMG) করা হতে পারে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হলো- রোগীকে তার রোগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া এবং জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া। কোন অভ্যাসগুলো রোগ বাড়ায় এবং কোনগুলো উপকারী- তা বোঝানোও দরকার। ওষুধের মধ্যে ব্যথানাশক (NSAID), মাংসপেশি শিথিলকারী ওষুধ (Muscle Relaxant), ভিটামিন বি১, বি৬ ও বি১২ (নার্ভের পুনরুদ্ধারে সহায়ক) এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা কমাতে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহার করা হতে পারে। তীব্র ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে স্বল্প সময়ের জন্য কর্টিকোস্টেরয়েডও দেওয়া যেতে পারে।
ফিজিওথেরাপি এ রোগের চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়ামের মাধ্যমে ঘাড় ও আশপাশের মাংসপেশি শক্তিশালী হয় এবং ব্যথা কমে। ইলেক্ট্রোথেরাপির মাধ্যমে তাপ প্রয়োগ করে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ব্যথা উপশমে করা হয়। সার্ভিকাল ট্র্যাকশনের মাধ্যমে স্নায়ুর ওপর চাপ কমিয়ে হাতের অবশভাব ও ঝিনঝিনে অনুভূতি কমানো যায়। তবে যখন ওষুধে কাজ হয় না, স্নায়ুসমস্যায় হাত-পায়ের মাংসপেশি দুর্বল বা সংকুচিত হয়ে যায়, হাঁটা বা দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হয়, মলমূত্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় অথবা স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়, তখন শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সার্ভিক্যাল স্পনডাইলোসিসের কারণে কিছু জটিল অবস্থাও তৈরি হয়। যেমন- সার্ভিক্যাল মায়েলোপ্যাথি, ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক প্রোলাপস বা কডা ইকুইনা সিনড্রোম। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন।

সার্ভিক্যাল স্পনডাইলোসিস, যা সাধারণভাবে ঘাড়ের বাত বা ঘাড়ের জয়েন্টের ক্ষয়জনিত রোগ হিসেবে পরিচিত, মূলত বয়সজনিত একটি সমস্যা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাড়ের হাড়, ডিস্ক ও আশপাশের টিস্যুতে অবক্ষয়জনিত পরিবর্তন ঘটে। ফলে এ রোগের প্রকোপ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। রোগটির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। প্রধানত বয়স বৃদ্ধির ফলে হাড় ও ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কে স্বাভাবিক ক্ষয় দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে একই ভঙ্গিতে ঘাড় বাঁকিয়ে কাজ করা, যেমন- কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার ডিস্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং এর গঠনগত পরিবর্তন ঘটায়। ফলে সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এছাড়া ডিস্কের আর্দ্রতা কমে গেলে কশেরুকার মধ্যে ঘর্ষণ বাড়ে। ফলে অস্বাভাবিক হাড়ের বৃদ্ধি বা ‘স্পার’ তৈরি হয়। এটি এ রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও অল্প বয়সে এই রোগ দেখা দিতে পারে। যেসব পেশায় দীর্ঘক্ষণ একইভাবে ঘাড় রাখতে হয় বা বারবার একই ধরনের নড়াচড়া করতে হয়, তাদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি। পূর্বে ঘাড়ে আঘাত পাওয়া থাকলেও ভবিষ্যতে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত শক্ত বা অতিরিক্ত নরম বালিশ ব্যবহার করাও ঝুঁকি বাড়ায়। কিছু সিস্টেমিক রোগ, যেমন- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা অটোইমিউন আর্থ্রাইটিস, থেকেও সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিস হতে পারে।
এ রোগের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঘাড়ে ব্যথা ও শক্ত হয়ে যাওয়া, পিঠের মাংসপেশিতে ব্যথা, ঘাড়ের ব্যথা হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া, হাত অবশ হয়ে যাওয়া বা ঝিনঝিন অনুভূতি (সার্ভিক্যাল রেডিকুলোপ্যাথি), মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং বমিভাব।
রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রথমে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস নেওয়া হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে (সার্ভিকাল স্পাইন), এমআরআই, সিটি স্ক্যান বা ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি (EMG) করা হতে পারে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হলো- রোগীকে তার রোগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া এবং জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া। কোন অভ্যাসগুলো রোগ বাড়ায় এবং কোনগুলো উপকারী- তা বোঝানোও দরকার। ওষুধের মধ্যে ব্যথানাশক (NSAID), মাংসপেশি শিথিলকারী ওষুধ (Muscle Relaxant), ভিটামিন বি১, বি৬ ও বি১২ (নার্ভের পুনরুদ্ধারে সহায়ক) এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা কমাতে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহার করা হতে পারে। তীব্র ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে স্বল্প সময়ের জন্য কর্টিকোস্টেরয়েডও দেওয়া যেতে পারে।
ফিজিওথেরাপি এ রোগের চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়ামের মাধ্যমে ঘাড় ও আশপাশের মাংসপেশি শক্তিশালী হয় এবং ব্যথা কমে। ইলেক্ট্রোথেরাপির মাধ্যমে তাপ প্রয়োগ করে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ব্যথা উপশমে করা হয়। সার্ভিকাল ট্র্যাকশনের মাধ্যমে স্নায়ুর ওপর চাপ কমিয়ে হাতের অবশভাব ও ঝিনঝিনে অনুভূতি কমানো যায়। তবে যখন ওষুধে কাজ হয় না, স্নায়ুসমস্যায় হাত-পায়ের মাংসপেশি দুর্বল বা সংকুচিত হয়ে যায়, হাঁটা বা দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হয়, মলমূত্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় অথবা স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়, তখন শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সার্ভিক্যাল স্পনডাইলোসিসের কারণে কিছু জটিল অবস্থাও তৈরি হয়। যেমন- সার্ভিক্যাল মায়েলোপ্যাথি, ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক প্রোলাপস বা কডা ইকুইনা সিনড্রোম। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন।

সার্ভিক্যাল স্পনডাইলোসিস, যা সাধারণভাবে ঘাড়ের বাত বা ঘাড়ের জয়েন্টের ক্ষয়জনিত রোগ হিসেবে পরিচিত, মূলত বয়সজনিত একটি সমস্যা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাড়ের হাড়, ডিস্ক ও আশপাশের টিস্যুতে অবক্ষয়জনিত পরিবর্তন ঘটে। ফলে এ রোগের প্রকোপ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। রোগটির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। প্রধানত বয়স বৃদ্ধির ফলে হাড় ও ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কে স্বাভাবিক ক্ষয় দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে একই ভঙ্গিতে ঘাড় বাঁকিয়ে কাজ করা, যেমন- কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার ডিস্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং এর গঠনগত পরিবর্তন ঘটায়। ফলে সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এছাড়া ডিস্কের আর্দ্রতা কমে গেলে কশেরুকার মধ্যে ঘর্ষণ বাড়ে। ফলে অস্বাভাবিক হাড়ের বৃদ্ধি বা ‘স্পার’ তৈরি হয়। এটি এ রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও অল্প বয়সে এই রোগ দেখা দিতে পারে। যেসব পেশায় দীর্ঘক্ষণ একইভাবে ঘাড় রাখতে হয় বা বারবার একই ধরনের নড়াচড়া করতে হয়, তাদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি। পূর্বে ঘাড়ে আঘাত পাওয়া থাকলেও ভবিষ্যতে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত শক্ত বা অতিরিক্ত নরম বালিশ ব্যবহার করাও ঝুঁকি বাড়ায়। কিছু সিস্টেমিক রোগ, যেমন- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা অটোইমিউন আর্থ্রাইটিস, থেকেও সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিস হতে পারে।
এ রোগের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঘাড়ে ব্যথা ও শক্ত হয়ে যাওয়া, পিঠের মাংসপেশিতে ব্যথা, ঘাড়ের ব্যথা হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া, হাত অবশ হয়ে যাওয়া বা ঝিনঝিন অনুভূতি (সার্ভিক্যাল রেডিকুলোপ্যাথি), মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং বমিভাব।
রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রথমে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস নেওয়া হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে (সার্ভিকাল স্পাইন), এমআরআই, সিটি স্ক্যান বা ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি (EMG) করা হতে পারে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হলো- রোগীকে তার রোগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া এবং জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া। কোন অভ্যাসগুলো রোগ বাড়ায় এবং কোনগুলো উপকারী- তা বোঝানোও দরকার। ওষুধের মধ্যে ব্যথানাশক (NSAID), মাংসপেশি শিথিলকারী ওষুধ (Muscle Relaxant), ভিটামিন বি১, বি৬ ও বি১২ (নার্ভের পুনরুদ্ধারে সহায়ক) এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা কমাতে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহার করা হতে পারে। তীব্র ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে স্বল্প সময়ের জন্য কর্টিকোস্টেরয়েডও দেওয়া যেতে পারে।
ফিজিওথেরাপি এ রোগের চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়ামের মাধ্যমে ঘাড় ও আশপাশের মাংসপেশি শক্তিশালী হয় এবং ব্যথা কমে। ইলেক্ট্রোথেরাপির মাধ্যমে তাপ প্রয়োগ করে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ব্যথা উপশমে করা হয়। সার্ভিকাল ট্র্যাকশনের মাধ্যমে স্নায়ুর ওপর চাপ কমিয়ে হাতের অবশভাব ও ঝিনঝিনে অনুভূতি কমানো যায়। তবে যখন ওষুধে কাজ হয় না, স্নায়ুসমস্যায় হাত-পায়ের মাংসপেশি দুর্বল বা সংকুচিত হয়ে যায়, হাঁটা বা দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হয়, মলমূত্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় অথবা স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়, তখন শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সার্ভিক্যাল স্পনডাইলোসিসের কারণে কিছু জটিল অবস্থাও তৈরি হয়। যেমন- সার্ভিক্যাল মায়েলোপ্যাথি, ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক প্রোলাপস বা কডা ইকুইনা সিনড্রোম। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন।

সার্ভিক্যাল স্পনডাইলোসিস, যা সাধারণভাবে ঘাড়ের বাত বা ঘাড়ের জয়েন্টের ক্ষয়জনিত রোগ হিসেবে পরিচিত, মূলত বয়সজনিত একটি সমস্যা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাড়ের হাড়, ডিস্ক ও আশপাশের টিস্যুতে অবক্ষয়জনিত পরিবর্তন ঘটে। ফলে এ রোগের প্রকোপ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। রোগটির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। প্রধানত বয়স বৃদ্ধির ফলে হাড় ও ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কে স্বাভাবিক ক্ষয় দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে একই ভঙ্গিতে ঘাড় বাঁকিয়ে কাজ করা, যেমন- কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার ডিস্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং এর গঠনগত পরিবর্তন ঘটায়। ফলে সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এছাড়া ডিস্কের আর্দ্রতা কমে গেলে কশেরুকার মধ্যে ঘর্ষণ বাড়ে। ফলে অস্বাভাবিক হাড়ের বৃদ্ধি বা ‘স্পার’ তৈরি হয়। এটি এ রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও অল্প বয়সে এই রোগ দেখা দিতে পারে। যেসব পেশায় দীর্ঘক্ষণ একইভাবে ঘাড় রাখতে হয় বা বারবার একই ধরনের নড়াচড়া করতে হয়, তাদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি। পূর্বে ঘাড়ে আঘাত পাওয়া থাকলেও ভবিষ্যতে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত শক্ত বা অতিরিক্ত নরম বালিশ ব্যবহার করাও ঝুঁকি বাড়ায়। কিছু সিস্টেমিক রোগ, যেমন- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা অটোইমিউন আর্থ্রাইটিস, থেকেও সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিস হতে পারে।
এ রোগের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঘাড়ে ব্যথা ও শক্ত হয়ে যাওয়া, পিঠের মাংসপেশিতে ব্যথা, ঘাড়ের ব্যথা হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া, হাত অবশ হয়ে যাওয়া বা ঝিনঝিন অনুভূতি (সার্ভিক্যাল রেডিকুলোপ্যাথি), মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং বমিভাব।
রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রথমে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস নেওয়া হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে (সার্ভিকাল স্পাইন), এমআরআই, সিটি স্ক্যান বা ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি (EMG) করা হতে পারে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হলো- রোগীকে তার রোগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া এবং জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া। কোন অভ্যাসগুলো রোগ বাড়ায় এবং কোনগুলো উপকারী- তা বোঝানোও দরকার। ওষুধের মধ্যে ব্যথানাশক (NSAID), মাংসপেশি শিথিলকারী ওষুধ (Muscle Relaxant), ভিটামিন বি১, বি৬ ও বি১২ (নার্ভের পুনরুদ্ধারে সহায়ক) এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা কমাতে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহার করা হতে পারে। তীব্র ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে স্বল্প সময়ের জন্য কর্টিকোস্টেরয়েডও দেওয়া যেতে পারে।
ফিজিওথেরাপি এ রোগের চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়ামের মাধ্যমে ঘাড় ও আশপাশের মাংসপেশি শক্তিশালী হয় এবং ব্যথা কমে। ইলেক্ট্রোথেরাপির মাধ্যমে তাপ প্রয়োগ করে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ব্যথা উপশমে করা হয়। সার্ভিকাল ট্র্যাকশনের মাধ্যমে স্নায়ুর ওপর চাপ কমিয়ে হাতের অবশভাব ও ঝিনঝিনে অনুভূতি কমানো যায়। তবে যখন ওষুধে কাজ হয় না, স্নায়ুসমস্যায় হাত-পায়ের মাংসপেশি দুর্বল বা সংকুচিত হয়ে যায়, হাঁটা বা দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হয়, মলমূত্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় অথবা স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়, তখন শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সার্ভিক্যাল স্পনডাইলোসিসের কারণে কিছু জটিল অবস্থাও তৈরি হয়। যেমন- সার্ভিক্যাল মায়েলোপ্যাথি, ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক প্রোলাপস বা কডা ইকুইনা সিনড্রোম। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!