
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও কমিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির সর্বশেষ ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, উচ্চ খেলাপি ঋণ, জ্বালানি সংকট, ঋণের উচ্চ সুদহার, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এডিবির মতে, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া ও ব্যালান্সশিট দুর্বল হয়ে পড়ায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উচ্চ সুদহারের পাশাপাশি ব্যাংকগুলো সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণের জোগান আরও সীমিত হতে পারে।
এর প্রভাব পড়তে পারে নতুন বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতির সঙ্গে ব্যাংক খাতের সংকট যুক্ত হয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছে এডিবি।
চাপে শিল্প খাত
এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক চাহিদার দুর্বলতা এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এ খাতের ওপর চাপ তৈরি করবে।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির পাশাপাশি পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও শিল্প উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন বিনিয়োগের অনুমোদন ও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতাও বিনিয়োগের গতি কমাতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এডিবির মতে, ভবিষ্যতে মুদ্রানীতি কিছুটা শিথিল করা হলেও ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও অন্যান্য সরবরাহগত সমস্যা থাকলে এর সুফল দ্রুত অর্থনীতিতে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
৯ শতাংশে উঠতে পারে মূল্যস্ফীতি
প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়েও সতর্ক করেছে এডিবি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
জ্বালানি, পরিবহন ও আমদানি ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব পণ্য ও সেবার দামে পড়তে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি ও সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব কৃষি উৎপাদনেও চাপ তৈরি করতে পারে।
এডিবির সেপ্টেম্বরের আউটলুকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
জ্বালানি ও জাহাজ চলাচলের ব্যয় বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ও বাড়তে পারে। এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানোর পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার খরচও বাড়াতে পারে।
কৃষিতেও ঝুঁকি
আবহাওয়াজনিত ধাক্কা ও সারের সীমিত প্রাপ্যতার কারণে কৃষি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের ব্যয়ও বাড়তে পারে।
ফলে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় থেকে কৃষি এবং খাদ্যপণ্যের দামে ধারাবাহিক চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রবৃদ্ধির ভরসা ভোগ ও প্রবাসী আয়
এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি থাকবে ব্যক্তিগত ভোগ। প্রবাসী আয় বাড়লে মানুষের ব্যয় করার সক্ষমতা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সেই ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করবে।
সংস্থাটি মনে করছে, প্রবাসী আয় অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা করলেও বেসরকারি বিনিয়োগ দুর্বল থাকলে দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানো কঠিন হবে।
উচ্চ সুদহার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি ঘাটতি এবং ব্যবসায়িক আস্থার সংকটকে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রধান বাধা হিসেবে দেখছে এডিবি।
অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে সরকারি বিনিয়োগ থেকেও প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে।
বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও দ্রুত বাড়বে না বলে মনে করছে সংস্থাটি। অন্যদিকে জ্বালানি ও শিল্প উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানি বাড়লে মোট আমদানিও বাড়তে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
পরিষেবা খাতে তুলনামূলক গতি
শিল্প ও কৃষি খাতে চাপ থাকলেও পরিষেবা খাত তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে এডিবি। আগামী অর্থবছরে এ খাতের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
প্রবাসী আয়, অভ্যন্তরীণ চাহিদার কিছুটা পুনরুদ্ধার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার কারণে পরিষেবা খাত এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
সব মিলিয়ে এডিবির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে কম প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির দ্বৈত চাপের চিত্র উঠে এসেছে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করা, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয়।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও কমিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির সর্বশেষ ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, উচ্চ খেলাপি ঋণ, জ্বালানি সংকট, ঋণের উচ্চ সুদহার, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এডিবির মতে, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া ও ব্যালান্সশিট দুর্বল হয়ে পড়ায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উচ্চ সুদহারের পাশাপাশি ব্যাংকগুলো সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণের জোগান আরও সীমিত হতে পারে।
এর প্রভাব পড়তে পারে নতুন বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতির সঙ্গে ব্যাংক খাতের সংকট যুক্ত হয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছে এডিবি।
চাপে শিল্প খাত
এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক চাহিদার দুর্বলতা এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এ খাতের ওপর চাপ তৈরি করবে।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির পাশাপাশি পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও শিল্প উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন বিনিয়োগের অনুমোদন ও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতাও বিনিয়োগের গতি কমাতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এডিবির মতে, ভবিষ্যতে মুদ্রানীতি কিছুটা শিথিল করা হলেও ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও অন্যান্য সরবরাহগত সমস্যা থাকলে এর সুফল দ্রুত অর্থনীতিতে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
৯ শতাংশে উঠতে পারে মূল্যস্ফীতি
প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়েও সতর্ক করেছে এডিবি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
জ্বালানি, পরিবহন ও আমদানি ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব পণ্য ও সেবার দামে পড়তে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি ও সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব কৃষি উৎপাদনেও চাপ তৈরি করতে পারে।
এডিবির সেপ্টেম্বরের আউটলুকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
জ্বালানি ও জাহাজ চলাচলের ব্যয় বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ও বাড়তে পারে। এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানোর পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার খরচও বাড়াতে পারে।
কৃষিতেও ঝুঁকি
আবহাওয়াজনিত ধাক্কা ও সারের সীমিত প্রাপ্যতার কারণে কৃষি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের ব্যয়ও বাড়তে পারে।
ফলে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় থেকে কৃষি এবং খাদ্যপণ্যের দামে ধারাবাহিক চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রবৃদ্ধির ভরসা ভোগ ও প্রবাসী আয়
এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি থাকবে ব্যক্তিগত ভোগ। প্রবাসী আয় বাড়লে মানুষের ব্যয় করার সক্ষমতা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সেই ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করবে।
সংস্থাটি মনে করছে, প্রবাসী আয় অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা করলেও বেসরকারি বিনিয়োগ দুর্বল থাকলে দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানো কঠিন হবে।
উচ্চ সুদহার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি ঘাটতি এবং ব্যবসায়িক আস্থার সংকটকে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রধান বাধা হিসেবে দেখছে এডিবি।
অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে সরকারি বিনিয়োগ থেকেও প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে।
বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও দ্রুত বাড়বে না বলে মনে করছে সংস্থাটি। অন্যদিকে জ্বালানি ও শিল্প উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানি বাড়লে মোট আমদানিও বাড়তে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
পরিষেবা খাতে তুলনামূলক গতি
শিল্প ও কৃষি খাতে চাপ থাকলেও পরিষেবা খাত তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে এডিবি। আগামী অর্থবছরে এ খাতের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
প্রবাসী আয়, অভ্যন্তরীণ চাহিদার কিছুটা পুনরুদ্ধার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার কারণে পরিষেবা খাত এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
সব মিলিয়ে এডিবির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে কম প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির দ্বৈত চাপের চিত্র উঠে এসেছে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করা, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয়।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও কমিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির সর্বশেষ ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, উচ্চ খেলাপি ঋণ, জ্বালানি সংকট, ঋণের উচ্চ সুদহার, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এডিবির মতে, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া ও ব্যালান্সশিট দুর্বল হয়ে পড়ায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উচ্চ সুদহারের পাশাপাশি ব্যাংকগুলো সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণের জোগান আরও সীমিত হতে পারে।
এর প্রভাব পড়তে পারে নতুন বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতির সঙ্গে ব্যাংক খাতের সংকট যুক্ত হয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছে এডিবি।
চাপে শিল্প খাত
এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক চাহিদার দুর্বলতা এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এ খাতের ওপর চাপ তৈরি করবে।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির পাশাপাশি পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও শিল্প উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন বিনিয়োগের অনুমোদন ও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতাও বিনিয়োগের গতি কমাতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এডিবির মতে, ভবিষ্যতে মুদ্রানীতি কিছুটা শিথিল করা হলেও ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও অন্যান্য সরবরাহগত সমস্যা থাকলে এর সুফল দ্রুত অর্থনীতিতে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
৯ শতাংশে উঠতে পারে মূল্যস্ফীতি
প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়েও সতর্ক করেছে এডিবি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
জ্বালানি, পরিবহন ও আমদানি ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব পণ্য ও সেবার দামে পড়তে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি ও সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব কৃষি উৎপাদনেও চাপ তৈরি করতে পারে।
এডিবির সেপ্টেম্বরের আউটলুকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
জ্বালানি ও জাহাজ চলাচলের ব্যয় বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ও বাড়তে পারে। এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানোর পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার খরচও বাড়াতে পারে।
কৃষিতেও ঝুঁকি
আবহাওয়াজনিত ধাক্কা ও সারের সীমিত প্রাপ্যতার কারণে কৃষি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের ব্যয়ও বাড়তে পারে।
ফলে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় থেকে কৃষি এবং খাদ্যপণ্যের দামে ধারাবাহিক চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রবৃদ্ধির ভরসা ভোগ ও প্রবাসী আয়
এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি থাকবে ব্যক্তিগত ভোগ। প্রবাসী আয় বাড়লে মানুষের ব্যয় করার সক্ষমতা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সেই ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করবে।
সংস্থাটি মনে করছে, প্রবাসী আয় অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা করলেও বেসরকারি বিনিয়োগ দুর্বল থাকলে দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানো কঠিন হবে।
উচ্চ সুদহার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি ঘাটতি এবং ব্যবসায়িক আস্থার সংকটকে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রধান বাধা হিসেবে দেখছে এডিবি।
অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে সরকারি বিনিয়োগ থেকেও প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে।
বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও দ্রুত বাড়বে না বলে মনে করছে সংস্থাটি। অন্যদিকে জ্বালানি ও শিল্প উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানি বাড়লে মোট আমদানিও বাড়তে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
পরিষেবা খাতে তুলনামূলক গতি
শিল্প ও কৃষি খাতে চাপ থাকলেও পরিষেবা খাত তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে এডিবি। আগামী অর্থবছরে এ খাতের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
প্রবাসী আয়, অভ্যন্তরীণ চাহিদার কিছুটা পুনরুদ্ধার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার কারণে পরিষেবা খাত এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
সব মিলিয়ে এডিবির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে কম প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির দ্বৈত চাপের চিত্র উঠে এসেছে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করা, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয়।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও কমিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির সর্বশেষ ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, উচ্চ খেলাপি ঋণ, জ্বালানি সংকট, ঋণের উচ্চ সুদহার, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এডিবির মতে, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া ও ব্যালান্সশিট দুর্বল হয়ে পড়ায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উচ্চ সুদহারের পাশাপাশি ব্যাংকগুলো সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণের জোগান আরও সীমিত হতে পারে।
এর প্রভাব পড়তে পারে নতুন বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতির সঙ্গে ব্যাংক খাতের সংকট যুক্ত হয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছে এডিবি।
চাপে শিল্প খাত
এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক চাহিদার দুর্বলতা এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এ খাতের ওপর চাপ তৈরি করবে।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির পাশাপাশি পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও শিল্প উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন বিনিয়োগের অনুমোদন ও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতাও বিনিয়োগের গতি কমাতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এডিবির মতে, ভবিষ্যতে মুদ্রানীতি কিছুটা শিথিল করা হলেও ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও অন্যান্য সরবরাহগত সমস্যা থাকলে এর সুফল দ্রুত অর্থনীতিতে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
৯ শতাংশে উঠতে পারে মূল্যস্ফীতি
প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়েও সতর্ক করেছে এডিবি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
জ্বালানি, পরিবহন ও আমদানি ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব পণ্য ও সেবার দামে পড়তে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি ও সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব কৃষি উৎপাদনেও চাপ তৈরি করতে পারে।
এডিবির সেপ্টেম্বরের আউটলুকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
জ্বালানি ও জাহাজ চলাচলের ব্যয় বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ও বাড়তে পারে। এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানোর পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার খরচও বাড়াতে পারে।
কৃষিতেও ঝুঁকি
আবহাওয়াজনিত ধাক্কা ও সারের সীমিত প্রাপ্যতার কারণে কৃষি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের ব্যয়ও বাড়তে পারে।
ফলে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় থেকে কৃষি এবং খাদ্যপণ্যের দামে ধারাবাহিক চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রবৃদ্ধির ভরসা ভোগ ও প্রবাসী আয়
এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি থাকবে ব্যক্তিগত ভোগ। প্রবাসী আয় বাড়লে মানুষের ব্যয় করার সক্ষমতা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সেই ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করবে।
সংস্থাটি মনে করছে, প্রবাসী আয় অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা করলেও বেসরকারি বিনিয়োগ দুর্বল থাকলে দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানো কঠিন হবে।
উচ্চ সুদহার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি ঘাটতি এবং ব্যবসায়িক আস্থার সংকটকে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রধান বাধা হিসেবে দেখছে এডিবি।
অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে সরকারি বিনিয়োগ থেকেও প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে।
বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও দ্রুত বাড়বে না বলে মনে করছে সংস্থাটি। অন্যদিকে জ্বালানি ও শিল্প উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানি বাড়লে মোট আমদানিও বাড়তে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
পরিষেবা খাতে তুলনামূলক গতি
শিল্প ও কৃষি খাতে চাপ থাকলেও পরিষেবা খাত তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে এডিবি। আগামী অর্থবছরে এ খাতের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
প্রবাসী আয়, অভ্যন্তরীণ চাহিদার কিছুটা পুনরুদ্ধার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার কারণে পরিষেবা খাত এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
সব মিলিয়ে এডিবির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে কম প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির দ্বৈত চাপের চিত্র উঠে এসেছে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করা, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয়।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!