
গাইবান্ধায় গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ২১২ হেক্টর জমির ধানক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এসব জমির বেশিরভাগই প্রায় পাকা ধান। একদিকে আক্রান্ত এসব জমির পাকা ধান না কাটলেই নয়, অন্যদিকে শ্রমিক সংকট এবং দ্বিগুণ দামে শ্রমিকের মজুরিতে উভয় সংকটে পড়েছে চাষিরা। এছাড়াও বাতাসে অপরিপক্ক ধানক্ষেত হেলে পড়ায় বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়েছে কিছু কিছু এলাকার কৃষক।
গাইবান্ধার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় পানিতে নিমজ্জিত ২১২ হেক্টর ধান ক্ষেতের মধ্যে সদরে ২২ হেক্টর, সুন্দরগঞ্জে ৯০ হেক্টর, সাদুল্লাপুরে ১৭ হেক্টর, পলাশবাড়ীতে ২০ হেক্টর, গোবিন্দগঞ্জে ২ হেক্টর, ফুলছড়িতে ৪৫ হেক্টর এবং সাঘাটা উপজেলায় ১৬ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এসবের বিপরীতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ১ হাজার ২৮০ জন।
কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশাখ মাসে এ বছর তুলনামূলক অনেক বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে বা হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে কৃষকের বিশেষ করে ধানচাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একদিকে কৃষি চাষাবাদে খরচের পরিমাণ দিন দিন ঊর্ধ্বমুখী, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এমন ক্ষতি কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে প্রবল সংকটে ফেলছে।
সরেজমিনে গত শুক্রবার ও শনিবার সদর এবং সাঘাটা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকার মধ্যে সাঘাটা উপজেলার ঘুরিদহ ইউনিয়নের ঝাড়াবর্ষা গ্রামে দেখা যায়, গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কের পূর্ব পাশের পাথারে ধানক্ষেতের গলায় গলায় পানি। কৃষকরা হাঁটু সমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। গৃহস্থরা রশিতে হাউন বা ভেলা সাজিয়ে জমি থেকে ধানের আঁটি নিয়ে এসে তুলছেন রাস্তায়। শ্রমিক না পেয়ে এবং দ্বিগুণ দামের কারণে কেউ কেউ নিজেরাই কাটছেন ধান। এছাড়াও দ্রুত ফসল রক্ষা করতে কাজে যোগ দিয়েছেন গৃহস্থ নারী এবং কিশোররাও।
এ সময় ঝাড়াবর্ষা গ্রামে পানিতে ভেলা সাজিয়ে ধানের আঁটি নিয়ে আসা নূর আলম বলেন, এখানকার অন্তত ১৫ থেকে ১৮ বিঘা জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। হাঁটুর ওপরে পানি। ধান কেটে শ্রমিকরা ভাড়ে করে নিয়ে আসতে পারেন না। তাই হাউন (ভেলা) সাজিয়ে আনতে হচ্ছে। এছাড়া নৌকায় করে আনা যেত কিন্তু আমাদের তো নৌকা নেই। এ সময় ভেলা টানা কাজে এক শিশুকেও সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।
এখানে ধানের আঁটি আনা-নেওয়ার কাজে ব্যস্ত থাকা রশিদা বেগম বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পানিতে পড়েছে ধান। পাকা ধান না কাটলেই নয়। চাহিদা মতো শ্রমিক পাচ্ছি না, তাই নিজেই এ কাজে সহযোগিতা করতেছি। এখানে আমাদের দুই বিঘা জমির ধান পুরোপুরি পানিতে পড়েছে।
একই এলাকার আব্দুল মোত্তালেব জানান, ঠিকমতো শ্রমিক পাচ্ছি না। পাকা ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তাই জামাই মুকুলকে সঙ্গে নিয়ে নিজেরাই ধান কাটছি। উপায় নাইতো, এখন যদি এই ধান না কাটি আবার বৃষ্টি হলে একেবারে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে।
মুকুল সরকার বলেন, ধানক্ষেতে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় ধান গাছের অর্ধেক অংশ কাটতে হচ্ছে। এতে করে গো খাদ্যের সংকট হবে।
পানিতে নিমজ্জিত ও আধাপাকা ধান কাটতে দেখা গেছে বেয়ালী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায়। এই ইউনিয়নের রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের গৃহস্থ কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টি এবং বাতাসে অপরিপক্ক ধানক্ষেত জমিতে শুয়ে (হেলে) গেছে। একদিকে পানি, অন্যদিকে ধান গাছ শুয়ে পড়ায় ক্ষেত না কাটলেই নয়। এখন না কাটলে এসব পচে নষ্ট হয়ে যাবে। বাধ্য হয়ে কাটতে হচ্ছে।
একই এলাকার আমিনুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে হাইব্রিড জাতের ধান লাগিয়েছিলাম। অপরিপক্ক ধানক্ষেত হেলে পড়েছে, বাধ্য হয়ে কাটতে হলো। ধার-দেনা করে ধান চাষ করেছিলাম, সবই লস।
গৃহস্থ কৃষক জফের উদ্দিন জানান, ধান চাষে হাল, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিক-সব মিলে প্রতিনিয়তই খরচের পরিমাণ বাড়ছে। তারওপর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষকদের দিশাহারা করে তুলছে। এছাড়া এই এলাকায় এবার যারা ডিজেল চালিত মেশিনে চাষাবাদ করেছেন তাদের খরচের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতা করতে কৃষি বিভাগসহ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জেলার সাত উপজেলার মধ্যে সব থেকে বেশি ধানক্ষেত পানিতে আক্রান্ত হয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। এ উপজেলায় পানিতে নিমজ্জিত ধানক্ষেতের পরিমাণ ৯০ হেক্টর।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির বলেন, পানিতে নিমজ্জিত ধানক্ষেতগুলো এখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আগামী আরও দুদিন বৃষ্টিপাত হওয়ার শঙ্কা আছে, এরপর বলা যাবে।
তিনি জানান, যেসব ধানক্ষেত বাতাসে হেলে পড়ে ওই সকল জমির ফসলের ক্ষতির শঙ্কা বেশি। বিশেষ করে গাছের নিচের আবাদি জমিগুলোর ধান গাছ হেলে পড়ে, ফলে ফসলের ক্ষতি হয়।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধার সাত উপজেলায় চলতি মওসুমে ২১২ হেক্টর জমির ধানক্ষেত পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এসবের মধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮ হেক্টর। ধান কাটা-মাড়াই চলছে, এর মধ্যে প্রবল বৃষ্টি না হলে ক্ষতির শঙ্কা খুবই ক্ষীণ বলেও জানান তিনি।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগামীকাল ৪ এপ্রিল পর্যন্ত গাইবান্ধাসহ ওই অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে।
চলতি বোরো মৌসুমে গাইবান্ধার ৭ উপজেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে গাইবান্ধার কৃষি বিভাগ। যার সমপরিমাণ জমিতে চাষাবাদও হয়েছে। এই ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭২ মেট্রিক টন ধান।

গাইবান্ধায় গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ২১২ হেক্টর জমির ধানক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এসব জমির বেশিরভাগই প্রায় পাকা ধান। একদিকে আক্রান্ত এসব জমির পাকা ধান না কাটলেই নয়, অন্যদিকে শ্রমিক সংকট এবং দ্বিগুণ দামে শ্রমিকের মজুরিতে উভয় সংকটে পড়েছে চাষিরা। এছাড়াও বাতাসে অপরিপক্ক ধানক্ষেত হেলে পড়ায় বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়েছে কিছু কিছু এলাকার কৃষক।
গাইবান্ধার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় পানিতে নিমজ্জিত ২১২ হেক্টর ধান ক্ষেতের মধ্যে সদরে ২২ হেক্টর, সুন্দরগঞ্জে ৯০ হেক্টর, সাদুল্লাপুরে ১৭ হেক্টর, পলাশবাড়ীতে ২০ হেক্টর, গোবিন্দগঞ্জে ২ হেক্টর, ফুলছড়িতে ৪৫ হেক্টর এবং সাঘাটা উপজেলায় ১৬ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এসবের বিপরীতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ১ হাজার ২৮০ জন।
কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশাখ মাসে এ বছর তুলনামূলক অনেক বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে বা হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে কৃষকের বিশেষ করে ধানচাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একদিকে কৃষি চাষাবাদে খরচের পরিমাণ দিন দিন ঊর্ধ্বমুখী, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এমন ক্ষতি কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে প্রবল সংকটে ফেলছে।
সরেজমিনে গত শুক্রবার ও শনিবার সদর এবং সাঘাটা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকার মধ্যে সাঘাটা উপজেলার ঘুরিদহ ইউনিয়নের ঝাড়াবর্ষা গ্রামে দেখা যায়, গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কের পূর্ব পাশের পাথারে ধানক্ষেতের গলায় গলায় পানি। কৃষকরা হাঁটু সমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। গৃহস্থরা রশিতে হাউন বা ভেলা সাজিয়ে জমি থেকে ধানের আঁটি নিয়ে এসে তুলছেন রাস্তায়। শ্রমিক না পেয়ে এবং দ্বিগুণ দামের কারণে কেউ কেউ নিজেরাই কাটছেন ধান। এছাড়াও দ্রুত ফসল রক্ষা করতে কাজে যোগ দিয়েছেন গৃহস্থ নারী এবং কিশোররাও।
এ সময় ঝাড়াবর্ষা গ্রামে পানিতে ভেলা সাজিয়ে ধানের আঁটি নিয়ে আসা নূর আলম বলেন, এখানকার অন্তত ১৫ থেকে ১৮ বিঘা জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। হাঁটুর ওপরে পানি। ধান কেটে শ্রমিকরা ভাড়ে করে নিয়ে আসতে পারেন না। তাই হাউন (ভেলা) সাজিয়ে আনতে হচ্ছে। এছাড়া নৌকায় করে আনা যেত কিন্তু আমাদের তো নৌকা নেই। এ সময় ভেলা টানা কাজে এক শিশুকেও সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।
এখানে ধানের আঁটি আনা-নেওয়ার কাজে ব্যস্ত থাকা রশিদা বেগম বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পানিতে পড়েছে ধান। পাকা ধান না কাটলেই নয়। চাহিদা মতো শ্রমিক পাচ্ছি না, তাই নিজেই এ কাজে সহযোগিতা করতেছি। এখানে আমাদের দুই বিঘা জমির ধান পুরোপুরি পানিতে পড়েছে।
একই এলাকার আব্দুল মোত্তালেব জানান, ঠিকমতো শ্রমিক পাচ্ছি না। পাকা ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তাই জামাই মুকুলকে সঙ্গে নিয়ে নিজেরাই ধান কাটছি। উপায় নাইতো, এখন যদি এই ধান না কাটি আবার বৃষ্টি হলে একেবারে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে।
মুকুল সরকার বলেন, ধানক্ষেতে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় ধান গাছের অর্ধেক অংশ কাটতে হচ্ছে। এতে করে গো খাদ্যের সংকট হবে।
পানিতে নিমজ্জিত ও আধাপাকা ধান কাটতে দেখা গেছে বেয়ালী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায়। এই ইউনিয়নের রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের গৃহস্থ কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টি এবং বাতাসে অপরিপক্ক ধানক্ষেত জমিতে শুয়ে (হেলে) গেছে। একদিকে পানি, অন্যদিকে ধান গাছ শুয়ে পড়ায় ক্ষেত না কাটলেই নয়। এখন না কাটলে এসব পচে নষ্ট হয়ে যাবে। বাধ্য হয়ে কাটতে হচ্ছে।
একই এলাকার আমিনুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে হাইব্রিড জাতের ধান লাগিয়েছিলাম। অপরিপক্ক ধানক্ষেত হেলে পড়েছে, বাধ্য হয়ে কাটতে হলো। ধার-দেনা করে ধান চাষ করেছিলাম, সবই লস।
গৃহস্থ কৃষক জফের উদ্দিন জানান, ধান চাষে হাল, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিক-সব মিলে প্রতিনিয়তই খরচের পরিমাণ বাড়ছে। তারওপর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষকদের দিশাহারা করে তুলছে। এছাড়া এই এলাকায় এবার যারা ডিজেল চালিত মেশিনে চাষাবাদ করেছেন তাদের খরচের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতা করতে কৃষি বিভাগসহ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জেলার সাত উপজেলার মধ্যে সব থেকে বেশি ধানক্ষেত পানিতে আক্রান্ত হয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। এ উপজেলায় পানিতে নিমজ্জিত ধানক্ষেতের পরিমাণ ৯০ হেক্টর।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির বলেন, পানিতে নিমজ্জিত ধানক্ষেতগুলো এখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আগামী আরও দুদিন বৃষ্টিপাত হওয়ার শঙ্কা আছে, এরপর বলা যাবে।
তিনি জানান, যেসব ধানক্ষেত বাতাসে হেলে পড়ে ওই সকল জমির ফসলের ক্ষতির শঙ্কা বেশি। বিশেষ করে গাছের নিচের আবাদি জমিগুলোর ধান গাছ হেলে পড়ে, ফলে ফসলের ক্ষতি হয়।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধার সাত উপজেলায় চলতি মওসুমে ২১২ হেক্টর জমির ধানক্ষেত পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এসবের মধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮ হেক্টর। ধান কাটা-মাড়াই চলছে, এর মধ্যে প্রবল বৃষ্টি না হলে ক্ষতির শঙ্কা খুবই ক্ষীণ বলেও জানান তিনি।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগামীকাল ৪ এপ্রিল পর্যন্ত গাইবান্ধাসহ ওই অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে।
চলতি বোরো মৌসুমে গাইবান্ধার ৭ উপজেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে গাইবান্ধার কৃষি বিভাগ। যার সমপরিমাণ জমিতে চাষাবাদও হয়েছে। এই ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭২ মেট্রিক টন ধান।

গাইবান্ধায় গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ২১২ হেক্টর জমির ধানক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এসব জমির বেশিরভাগই প্রায় পাকা ধান। একদিকে আক্রান্ত এসব জমির পাকা ধান না কাটলেই নয়, অন্যদিকে শ্রমিক সংকট এবং দ্বিগুণ দামে শ্রমিকের মজুরিতে উভয় সংকটে পড়েছে চাষিরা। এছাড়াও বাতাসে অপরিপক্ক ধানক্ষেত হেলে পড়ায় বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়েছে কিছু কিছু এলাকার কৃষক।
গাইবান্ধার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় পানিতে নিমজ্জিত ২১২ হেক্টর ধান ক্ষেতের মধ্যে সদরে ২২ হেক্টর, সুন্দরগঞ্জে ৯০ হেক্টর, সাদুল্লাপুরে ১৭ হেক্টর, পলাশবাড়ীতে ২০ হেক্টর, গোবিন্দগঞ্জে ২ হেক্টর, ফুলছড়িতে ৪৫ হেক্টর এবং সাঘাটা উপজেলায় ১৬ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এসবের বিপরীতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ১ হাজার ২৮০ জন।
কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশাখ মাসে এ বছর তুলনামূলক অনেক বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে বা হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে কৃষকের বিশেষ করে ধানচাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একদিকে কৃষি চাষাবাদে খরচের পরিমাণ দিন দিন ঊর্ধ্বমুখী, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এমন ক্ষতি কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে প্রবল সংকটে ফেলছে।
সরেজমিনে গত শুক্রবার ও শনিবার সদর এবং সাঘাটা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকার মধ্যে সাঘাটা উপজেলার ঘুরিদহ ইউনিয়নের ঝাড়াবর্ষা গ্রামে দেখা যায়, গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কের পূর্ব পাশের পাথারে ধানক্ষেতের গলায় গলায় পানি। কৃষকরা হাঁটু সমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। গৃহস্থরা রশিতে হাউন বা ভেলা সাজিয়ে জমি থেকে ধানের আঁটি নিয়ে এসে তুলছেন রাস্তায়। শ্রমিক না পেয়ে এবং দ্বিগুণ দামের কারণে কেউ কেউ নিজেরাই কাটছেন ধান। এছাড়াও দ্রুত ফসল রক্ষা করতে কাজে যোগ দিয়েছেন গৃহস্থ নারী এবং কিশোররাও।
এ সময় ঝাড়াবর্ষা গ্রামে পানিতে ভেলা সাজিয়ে ধানের আঁটি নিয়ে আসা নূর আলম বলেন, এখানকার অন্তত ১৫ থেকে ১৮ বিঘা জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। হাঁটুর ওপরে পানি। ধান কেটে শ্রমিকরা ভাড়ে করে নিয়ে আসতে পারেন না। তাই হাউন (ভেলা) সাজিয়ে আনতে হচ্ছে। এছাড়া নৌকায় করে আনা যেত কিন্তু আমাদের তো নৌকা নেই। এ সময় ভেলা টানা কাজে এক শিশুকেও সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।
এখানে ধানের আঁটি আনা-নেওয়ার কাজে ব্যস্ত থাকা রশিদা বেগম বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পানিতে পড়েছে ধান। পাকা ধান না কাটলেই নয়। চাহিদা মতো শ্রমিক পাচ্ছি না, তাই নিজেই এ কাজে সহযোগিতা করতেছি। এখানে আমাদের দুই বিঘা জমির ধান পুরোপুরি পানিতে পড়েছে।
একই এলাকার আব্দুল মোত্তালেব জানান, ঠিকমতো শ্রমিক পাচ্ছি না। পাকা ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তাই জামাই মুকুলকে সঙ্গে নিয়ে নিজেরাই ধান কাটছি। উপায় নাইতো, এখন যদি এই ধান না কাটি আবার বৃষ্টি হলে একেবারে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে।
মুকুল সরকার বলেন, ধানক্ষেতে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় ধান গাছের অর্ধেক অংশ কাটতে হচ্ছে। এতে করে গো খাদ্যের সংকট হবে।
পানিতে নিমজ্জিত ও আধাপাকা ধান কাটতে দেখা গেছে বেয়ালী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায়। এই ইউনিয়নের রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের গৃহস্থ কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টি এবং বাতাসে অপরিপক্ক ধানক্ষেত জমিতে শুয়ে (হেলে) গেছে। একদিকে পানি, অন্যদিকে ধান গাছ শুয়ে পড়ায় ক্ষেত না কাটলেই নয়। এখন না কাটলে এসব পচে নষ্ট হয়ে যাবে। বাধ্য হয়ে কাটতে হচ্ছে।
একই এলাকার আমিনুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে হাইব্রিড জাতের ধান লাগিয়েছিলাম। অপরিপক্ক ধানক্ষেত হেলে পড়েছে, বাধ্য হয়ে কাটতে হলো। ধার-দেনা করে ধান চাষ করেছিলাম, সবই লস।
গৃহস্থ কৃষক জফের উদ্দিন জানান, ধান চাষে হাল, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিক-সব মিলে প্রতিনিয়তই খরচের পরিমাণ বাড়ছে। তারওপর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষকদের দিশাহারা করে তুলছে। এছাড়া এই এলাকায় এবার যারা ডিজেল চালিত মেশিনে চাষাবাদ করেছেন তাদের খরচের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতা করতে কৃষি বিভাগসহ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জেলার সাত উপজেলার মধ্যে সব থেকে বেশি ধানক্ষেত পানিতে আক্রান্ত হয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। এ উপজেলায় পানিতে নিমজ্জিত ধানক্ষেতের পরিমাণ ৯০ হেক্টর।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির বলেন, পানিতে নিমজ্জিত ধানক্ষেতগুলো এখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আগামী আরও দুদিন বৃষ্টিপাত হওয়ার শঙ্কা আছে, এরপর বলা যাবে।
তিনি জানান, যেসব ধানক্ষেত বাতাসে হেলে পড়ে ওই সকল জমির ফসলের ক্ষতির শঙ্কা বেশি। বিশেষ করে গাছের নিচের আবাদি জমিগুলোর ধান গাছ হেলে পড়ে, ফলে ফসলের ক্ষতি হয়।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধার সাত উপজেলায় চলতি মওসুমে ২১২ হেক্টর জমির ধানক্ষেত পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এসবের মধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮ হেক্টর। ধান কাটা-মাড়াই চলছে, এর মধ্যে প্রবল বৃষ্টি না হলে ক্ষতির শঙ্কা খুবই ক্ষীণ বলেও জানান তিনি।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগামীকাল ৪ এপ্রিল পর্যন্ত গাইবান্ধাসহ ওই অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে।
চলতি বোরো মৌসুমে গাইবান্ধার ৭ উপজেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে গাইবান্ধার কৃষি বিভাগ। যার সমপরিমাণ জমিতে চাষাবাদও হয়েছে। এই ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭২ মেট্রিক টন ধান।

গাইবান্ধায় গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ২১২ হেক্টর জমির ধানক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এসব জমির বেশিরভাগই প্রায় পাকা ধান। একদিকে আক্রান্ত এসব জমির পাকা ধান না কাটলেই নয়, অন্যদিকে শ্রমিক সংকট এবং দ্বিগুণ দামে শ্রমিকের মজুরিতে উভয় সংকটে পড়েছে চাষিরা। এছাড়াও বাতাসে অপরিপক্ক ধানক্ষেত হেলে পড়ায় বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়েছে কিছু কিছু এলাকার কৃষক।
গাইবান্ধার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় পানিতে নিমজ্জিত ২১২ হেক্টর ধান ক্ষেতের মধ্যে সদরে ২২ হেক্টর, সুন্দরগঞ্জে ৯০ হেক্টর, সাদুল্লাপুরে ১৭ হেক্টর, পলাশবাড়ীতে ২০ হেক্টর, গোবিন্দগঞ্জে ২ হেক্টর, ফুলছড়িতে ৪৫ হেক্টর এবং সাঘাটা উপজেলায় ১৬ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এসবের বিপরীতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ১ হাজার ২৮০ জন।
কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশাখ মাসে এ বছর তুলনামূলক অনেক বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে বা হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে কৃষকের বিশেষ করে ধানচাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একদিকে কৃষি চাষাবাদে খরচের পরিমাণ দিন দিন ঊর্ধ্বমুখী, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এমন ক্ষতি কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে প্রবল সংকটে ফেলছে।
সরেজমিনে গত শুক্রবার ও শনিবার সদর এবং সাঘাটা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকার মধ্যে সাঘাটা উপজেলার ঘুরিদহ ইউনিয়নের ঝাড়াবর্ষা গ্রামে দেখা যায়, গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কের পূর্ব পাশের পাথারে ধানক্ষেতের গলায় গলায় পানি। কৃষকরা হাঁটু সমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। গৃহস্থরা রশিতে হাউন বা ভেলা সাজিয়ে জমি থেকে ধানের আঁটি নিয়ে এসে তুলছেন রাস্তায়। শ্রমিক না পেয়ে এবং দ্বিগুণ দামের কারণে কেউ কেউ নিজেরাই কাটছেন ধান। এছাড়াও দ্রুত ফসল রক্ষা করতে কাজে যোগ দিয়েছেন গৃহস্থ নারী এবং কিশোররাও।
এ সময় ঝাড়াবর্ষা গ্রামে পানিতে ভেলা সাজিয়ে ধানের আঁটি নিয়ে আসা নূর আলম বলেন, এখানকার অন্তত ১৫ থেকে ১৮ বিঘা জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। হাঁটুর ওপরে পানি। ধান কেটে শ্রমিকরা ভাড়ে করে নিয়ে আসতে পারেন না। তাই হাউন (ভেলা) সাজিয়ে আনতে হচ্ছে। এছাড়া নৌকায় করে আনা যেত কিন্তু আমাদের তো নৌকা নেই। এ সময় ভেলা টানা কাজে এক শিশুকেও সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।
এখানে ধানের আঁটি আনা-নেওয়ার কাজে ব্যস্ত থাকা রশিদা বেগম বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পানিতে পড়েছে ধান। পাকা ধান না কাটলেই নয়। চাহিদা মতো শ্রমিক পাচ্ছি না, তাই নিজেই এ কাজে সহযোগিতা করতেছি। এখানে আমাদের দুই বিঘা জমির ধান পুরোপুরি পানিতে পড়েছে।
একই এলাকার আব্দুল মোত্তালেব জানান, ঠিকমতো শ্রমিক পাচ্ছি না। পাকা ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তাই জামাই মুকুলকে সঙ্গে নিয়ে নিজেরাই ধান কাটছি। উপায় নাইতো, এখন যদি এই ধান না কাটি আবার বৃষ্টি হলে একেবারে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে।
মুকুল সরকার বলেন, ধানক্ষেতে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় ধান গাছের অর্ধেক অংশ কাটতে হচ্ছে। এতে করে গো খাদ্যের সংকট হবে।
পানিতে নিমজ্জিত ও আধাপাকা ধান কাটতে দেখা গেছে বেয়ালী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায়। এই ইউনিয়নের রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের গৃহস্থ কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টি এবং বাতাসে অপরিপক্ক ধানক্ষেত জমিতে শুয়ে (হেলে) গেছে। একদিকে পানি, অন্যদিকে ধান গাছ শুয়ে পড়ায় ক্ষেত না কাটলেই নয়। এখন না কাটলে এসব পচে নষ্ট হয়ে যাবে। বাধ্য হয়ে কাটতে হচ্ছে।
একই এলাকার আমিনুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে হাইব্রিড জাতের ধান লাগিয়েছিলাম। অপরিপক্ক ধানক্ষেত হেলে পড়েছে, বাধ্য হয়ে কাটতে হলো। ধার-দেনা করে ধান চাষ করেছিলাম, সবই লস।
গৃহস্থ কৃষক জফের উদ্দিন জানান, ধান চাষে হাল, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিক-সব মিলে প্রতিনিয়তই খরচের পরিমাণ বাড়ছে। তারওপর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষকদের দিশাহারা করে তুলছে। এছাড়া এই এলাকায় এবার যারা ডিজেল চালিত মেশিনে চাষাবাদ করেছেন তাদের খরচের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতা করতে কৃষি বিভাগসহ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জেলার সাত উপজেলার মধ্যে সব থেকে বেশি ধানক্ষেত পানিতে আক্রান্ত হয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। এ উপজেলায় পানিতে নিমজ্জিত ধানক্ষেতের পরিমাণ ৯০ হেক্টর।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির বলেন, পানিতে নিমজ্জিত ধানক্ষেতগুলো এখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আগামী আরও দুদিন বৃষ্টিপাত হওয়ার শঙ্কা আছে, এরপর বলা যাবে।
তিনি জানান, যেসব ধানক্ষেত বাতাসে হেলে পড়ে ওই সকল জমির ফসলের ক্ষতির শঙ্কা বেশি। বিশেষ করে গাছের নিচের আবাদি জমিগুলোর ধান গাছ হেলে পড়ে, ফলে ফসলের ক্ষতি হয়।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধার সাত উপজেলায় চলতি মওসুমে ২১২ হেক্টর জমির ধানক্ষেত পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এসবের মধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮ হেক্টর। ধান কাটা-মাড়াই চলছে, এর মধ্যে প্রবল বৃষ্টি না হলে ক্ষতির শঙ্কা খুবই ক্ষীণ বলেও জানান তিনি।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগামীকাল ৪ এপ্রিল পর্যন্ত গাইবান্ধাসহ ওই অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে।
চলতি বোরো মৌসুমে গাইবান্ধার ৭ উপজেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে গাইবান্ধার কৃষি বিভাগ। যার সমপরিমাণ জমিতে চাষাবাদও হয়েছে। এই ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭২ মেট্রিক টন ধান।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!