
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যেন বাংলাদেশের বেকারত্বের সমস্যা আরও প্রকট না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, ‘প্রযুক্তি হবে মানুষের জন্য, মানুষ প্রযুক্তির জন্য নয়।’ প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের সক্ষমতা বাড়ায়, মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখে এবং বৃহত্তর জনকল্যাণে অবদান রাখে, তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম এআই বিজনেস সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি এ আয়োজনের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব এখন এক মহাপরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যার প্রধান অনুঘটক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী দশকে এআইয়ের পরিবর্তন বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যাবে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় হবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই এই সম্মেলন নিছক কোনো আয়োজন নয়, বরং ভবিষ্যতের পথরেখা তৈরির একটি মঞ্চ।
তিনি বলেন, এআই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান তৈরিতে এ প্রযুক্তিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সেই জাতি কত দ্রুত নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞানকে আপন করে নিতে পারে, তার ওপর। আজকের বিশ্বে সেই নতুন জ্ঞানের নাম এআই। বিদ্যুতের মতো এআইও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে এবং সামনে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে।
তবে এআই ব্যবহারে ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এআই যেন সবকিছুর নিয়ন্ত্রণের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য এর নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ জরুরি। অন্যথায় মানবসভ্যতা অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে।
বাংলাদেশে বেকারত্ব অন্যতম প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআই যেন এ সমস্যাকে আরও প্রকট না করে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের সক্ষমতা বাড়ায়, মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখে এবং বৃহত্তর জনকল্যাণে অবদান রাখে-তা নিশ্চিত করতে হবে।
তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি বিপুল তরুণ সমাজ। তারা প্রযুক্তিবান্ধব এবং স্বপ্ন দেখতে জানে। তারাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান সৈনিক। তবে এই বিপ্লবের সুফল পেতে তরুণদের প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সুপ্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প যেমন বিশ্বে দেশকে পরিচিত করেছে, তেমনি আগামী দিনে এআইশিল্পও বাংলাদেশকে বিশ্বে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করতে সক্ষম হবে।
এআইয়ের সুফল কাজে লাগাতে সরকার একটি মানবকেন্দ্রিক জাতীয় এআই নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এতে নৈতিকতা, মানবাধিকার, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বশীল উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরে এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য যোগ করবে। বাংলাদেশকে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে দেশকে এআই উদ্ভাবন ও প্রয়োগকারী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
এআইকে শুধু ব্যয় কমানোর হাতিয়ার না করার আহ্বান
ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য ও সেবা তৈরি, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে দেখতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি খাত, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখছে, তা পূরণ করা সম্ভব।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যে বাংলাদেশ এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এআই উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের শুধু অংশীদার নয়, প্রণেতা হতে হবে বাংলাদেশকে।
তিনি বলেন, লক্ষ্য হতে হবে এআইনির্ভর নয়; বরং এআই-সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে সম্মেলনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যেন বাংলাদেশের বেকারত্বের সমস্যা আরও প্রকট না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, ‘প্রযুক্তি হবে মানুষের জন্য, মানুষ প্রযুক্তির জন্য নয়।’ প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের সক্ষমতা বাড়ায়, মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখে এবং বৃহত্তর জনকল্যাণে অবদান রাখে, তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম এআই বিজনেস সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি এ আয়োজনের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব এখন এক মহাপরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যার প্রধান অনুঘটক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী দশকে এআইয়ের পরিবর্তন বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যাবে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় হবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই এই সম্মেলন নিছক কোনো আয়োজন নয়, বরং ভবিষ্যতের পথরেখা তৈরির একটি মঞ্চ।
তিনি বলেন, এআই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান তৈরিতে এ প্রযুক্তিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সেই জাতি কত দ্রুত নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞানকে আপন করে নিতে পারে, তার ওপর। আজকের বিশ্বে সেই নতুন জ্ঞানের নাম এআই। বিদ্যুতের মতো এআইও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে এবং সামনে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে।
তবে এআই ব্যবহারে ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এআই যেন সবকিছুর নিয়ন্ত্রণের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য এর নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ জরুরি। অন্যথায় মানবসভ্যতা অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে।
বাংলাদেশে বেকারত্ব অন্যতম প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআই যেন এ সমস্যাকে আরও প্রকট না করে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের সক্ষমতা বাড়ায়, মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখে এবং বৃহত্তর জনকল্যাণে অবদান রাখে-তা নিশ্চিত করতে হবে।
তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি বিপুল তরুণ সমাজ। তারা প্রযুক্তিবান্ধব এবং স্বপ্ন দেখতে জানে। তারাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান সৈনিক। তবে এই বিপ্লবের সুফল পেতে তরুণদের প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সুপ্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প যেমন বিশ্বে দেশকে পরিচিত করেছে, তেমনি আগামী দিনে এআইশিল্পও বাংলাদেশকে বিশ্বে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করতে সক্ষম হবে।
এআইয়ের সুফল কাজে লাগাতে সরকার একটি মানবকেন্দ্রিক জাতীয় এআই নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এতে নৈতিকতা, মানবাধিকার, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বশীল উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরে এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য যোগ করবে। বাংলাদেশকে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে দেশকে এআই উদ্ভাবন ও প্রয়োগকারী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
এআইকে শুধু ব্যয় কমানোর হাতিয়ার না করার আহ্বান
ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য ও সেবা তৈরি, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে দেখতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি খাত, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখছে, তা পূরণ করা সম্ভব।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যে বাংলাদেশ এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এআই উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের শুধু অংশীদার নয়, প্রণেতা হতে হবে বাংলাদেশকে।
তিনি বলেন, লক্ষ্য হতে হবে এআইনির্ভর নয়; বরং এআই-সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে সম্মেলনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যেন বাংলাদেশের বেকারত্বের সমস্যা আরও প্রকট না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, ‘প্রযুক্তি হবে মানুষের জন্য, মানুষ প্রযুক্তির জন্য নয়।’ প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের সক্ষমতা বাড়ায়, মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখে এবং বৃহত্তর জনকল্যাণে অবদান রাখে, তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম এআই বিজনেস সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি এ আয়োজনের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব এখন এক মহাপরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যার প্রধান অনুঘটক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী দশকে এআইয়ের পরিবর্তন বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যাবে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় হবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই এই সম্মেলন নিছক কোনো আয়োজন নয়, বরং ভবিষ্যতের পথরেখা তৈরির একটি মঞ্চ।
তিনি বলেন, এআই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান তৈরিতে এ প্রযুক্তিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সেই জাতি কত দ্রুত নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞানকে আপন করে নিতে পারে, তার ওপর। আজকের বিশ্বে সেই নতুন জ্ঞানের নাম এআই। বিদ্যুতের মতো এআইও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে এবং সামনে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে।
তবে এআই ব্যবহারে ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এআই যেন সবকিছুর নিয়ন্ত্রণের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য এর নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ জরুরি। অন্যথায় মানবসভ্যতা অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে।
বাংলাদেশে বেকারত্ব অন্যতম প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআই যেন এ সমস্যাকে আরও প্রকট না করে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের সক্ষমতা বাড়ায়, মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখে এবং বৃহত্তর জনকল্যাণে অবদান রাখে-তা নিশ্চিত করতে হবে।
তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি বিপুল তরুণ সমাজ। তারা প্রযুক্তিবান্ধব এবং স্বপ্ন দেখতে জানে। তারাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান সৈনিক। তবে এই বিপ্লবের সুফল পেতে তরুণদের প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সুপ্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প যেমন বিশ্বে দেশকে পরিচিত করেছে, তেমনি আগামী দিনে এআইশিল্পও বাংলাদেশকে বিশ্বে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করতে সক্ষম হবে।
এআইয়ের সুফল কাজে লাগাতে সরকার একটি মানবকেন্দ্রিক জাতীয় এআই নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এতে নৈতিকতা, মানবাধিকার, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বশীল উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরে এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য যোগ করবে। বাংলাদেশকে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে দেশকে এআই উদ্ভাবন ও প্রয়োগকারী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
এআইকে শুধু ব্যয় কমানোর হাতিয়ার না করার আহ্বান
ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য ও সেবা তৈরি, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে দেখতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি খাত, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখছে, তা পূরণ করা সম্ভব।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যে বাংলাদেশ এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এআই উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের শুধু অংশীদার নয়, প্রণেতা হতে হবে বাংলাদেশকে।
তিনি বলেন, লক্ষ্য হতে হবে এআইনির্ভর নয়; বরং এআই-সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে সম্মেলনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যেন বাংলাদেশের বেকারত্বের সমস্যা আরও প্রকট না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, ‘প্রযুক্তি হবে মানুষের জন্য, মানুষ প্রযুক্তির জন্য নয়।’ প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের সক্ষমতা বাড়ায়, মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখে এবং বৃহত্তর জনকল্যাণে অবদান রাখে, তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম এআই বিজনেস সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি এ আয়োজনের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব এখন এক মহাপরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যার প্রধান অনুঘটক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী দশকে এআইয়ের পরিবর্তন বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যাবে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় হবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই এই সম্মেলন নিছক কোনো আয়োজন নয়, বরং ভবিষ্যতের পথরেখা তৈরির একটি মঞ্চ।
তিনি বলেন, এআই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান তৈরিতে এ প্রযুক্তিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সেই জাতি কত দ্রুত নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞানকে আপন করে নিতে পারে, তার ওপর। আজকের বিশ্বে সেই নতুন জ্ঞানের নাম এআই। বিদ্যুতের মতো এআইও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে এবং সামনে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে।
তবে এআই ব্যবহারে ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এআই যেন সবকিছুর নিয়ন্ত্রণের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য এর নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ জরুরি। অন্যথায় মানবসভ্যতা অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে।
বাংলাদেশে বেকারত্ব অন্যতম প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআই যেন এ সমস্যাকে আরও প্রকট না করে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের সক্ষমতা বাড়ায়, মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখে এবং বৃহত্তর জনকল্যাণে অবদান রাখে-তা নিশ্চিত করতে হবে।
তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি বিপুল তরুণ সমাজ। তারা প্রযুক্তিবান্ধব এবং স্বপ্ন দেখতে জানে। তারাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান সৈনিক। তবে এই বিপ্লবের সুফল পেতে তরুণদের প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সুপ্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প যেমন বিশ্বে দেশকে পরিচিত করেছে, তেমনি আগামী দিনে এআইশিল্পও বাংলাদেশকে বিশ্বে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করতে সক্ষম হবে।
এআইয়ের সুফল কাজে লাগাতে সরকার একটি মানবকেন্দ্রিক জাতীয় এআই নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এতে নৈতিকতা, মানবাধিকার, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বশীল উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরে এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য যোগ করবে। বাংলাদেশকে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে দেশকে এআই উদ্ভাবন ও প্রয়োগকারী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
এআইকে শুধু ব্যয় কমানোর হাতিয়ার না করার আহ্বান
ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য ও সেবা তৈরি, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে দেখতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি খাত, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখছে, তা পূরণ করা সম্ভব।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যে বাংলাদেশ এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এআই উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের শুধু অংশীদার নয়, প্রণেতা হতে হবে বাংলাদেশকে।
তিনি বলেন, লক্ষ্য হতে হবে এআইনির্ভর নয়; বরং এআই-সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে সম্মেলনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!